গাজীপুরের ৪ নম্বর সংসদীয় আসনে বৃহস্পতিবার বিকালে ভাওয়াল চাঁদপুর কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও বাংলাদেশ গার্ডরা ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ করে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন বিএনপি ও দুজন জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মী ছিলেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যেককে দুই বছর জেল এবং দশ হাজার টাকার জরিমানা আরোপ করেন; জরিমানা না পরিশোধ করলে অতিরিক্ত এক মাসের কারাদণ্ড হবে। গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেন এই দণ্ডাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিএনপি কর্মীদের নাম হল মো. ইলিয়াস (দুর্গাপুর গ্রাম, কাপাসিয়া উপজেলা) ও মো. তারেক (সোনারুয়া গ্রাম, একই উপজেলা)। জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মীদের মধ্যে রয়েছে মো. মেজবাহ (ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার শিকারপুর গ্রাম) এবং মো. ইফতেখার (গাজীপুরের কাপাসিয়া)।
সংঘর্ষের পরপরই গাজীপুরের উচ্চ আদালতে মামলাটি শোনানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে একই শাস্তি প্রদান করা হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখার গুরুত্ব পুনরায় উদ্ভাসিত হয়েছে।
একই দিনে, বাংলাদেশ জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে একটি ব্রিফিংয়ে দেশের শাসনব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি সরকারকে জনগণের হাতে রাখার, কোনো দল, ব্যক্তি বা পরিবারের স্বার্থে না চলার আহ্বান জানান এবং ১.৮ কোটি মানুষের জন্য স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত শাসন গড়ে তোলার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
ভোটগ্রহণের সময়সূচি অনুযায়ী বিকেল ৪:৩০ টায় বেশিরভাগ কেন্দ্রের কাজ শেষ হওয়া উচিত ছিল, তবে রাজধানীর বছিলা পুরাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটদান চলতে থাকে। বিকেল ৫:১০ টার দিকে সেখানে নারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়, যেখানে ৫০ জনেরও বেশি নারী ভোটের অপেক্ষায় ছিলেন। এই কেন্দ্রটি বিশেষভাবে নারীদের জন্য নির্ধারিত, ফলে সেখানে শুধুমাত্র নারী ভোটারই অংশগ্রহণ করেন।
বছিলা কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৮৩২, যার মধ্যে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত ১,৭৫০ ভোট দাখিল হয়। ভোটগ্রহণের হার ৪৫.৬ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। ভোটদান শেষ হওয়ার পর, কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলায় নারীদের জন্য নির্ধারিত লাইনটি এখনও চলমান ছিল, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা ও অংশগ্রহণের ইচ্ছা নির্দেশ করে।
গাজীপুর-৪ আসনের ফলাফল এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে ভোট গণনা চলমান। নির্বাচনী ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা দেশজুড়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া বজায় রাখতে হবে, বিশেষত এমন এলাকায় যেখানে পূর্বে সংঘর্ষের ঝুঁকি দেখা গেছে।
এই ঘটনার পর, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর এবং রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান করা হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তাই সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।



