মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি আদেশে ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন অধিনায়ক মাহেন্দ্র সিং ধোনিকে ২০১৩ সালের আইপিএল স্পট‑ফিক্সিং ও বেটিং কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত মানহানির মামলায় ১০ লাখ রুপি প্রদান করতে বলা হয়েছে। আদালত ধোনির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অডিও রেকর্ডিংয়ের হিন্দি ভাষা থেকে ইংরেজি লিখিত রূপান্তরের খরচকে মূল বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেছে।
বিচারপতি আর.এন. মাঞ্জুলা উল্লেখ করেন, টেলিভিশন বিতর্ক, সংবাদ ক্লিপ এবং অন্যান্য হিন্দি রেকর্ডিংগুলোকে ইংরেজি টেক্সটে রূপান্তর করতে যথেষ্ট সময় ও শ্রম প্রয়োজন। তিনি এই কাজকে “বৃহৎ কর্মযজ্ঞ” বলে বর্ণনা করে, এক থেকে চার মাসের মধ্যে একজন দোভাষী ও টাইপিস্টের নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
ধোনি নিজেই এই মামলাটি দায়েরকারী হওয়ায় আদালত রায় দিয়েছে যে রূপান্তর কাজের খরচ তারই বহন করতে হবে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে ১২ মার্চের মধ্যে প্রধান বিচারপতির ত্রাণ তহবিলে এই অর্থ জমা দিতে হবে, যাতে এক দশক পুরোনো মামলাটি অগ্রসর করা যায়।
মামলাটি মূলত ২০১৪ সালে ধোনি দুইটি মিডিয়া চ্যানেল, এক সাংবাদিক এবং এক অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি রুপি মানহানির মামলা দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন যে ওই মিডিয়া সংস্থাগুলো ২০১৩ সালের আইপিএল বেটিং ও স্পট‑ফিক্সিং কেলেঙ্কারির সঙ্গে তার নাম যুক্ত করে মানহানিকর মন্তব্য করেছে। ধোনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে, কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।
মামলাটি একাধিক অন্তর্বর্তী আবেদন ও আপিলের ফলে দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির ছিল। আদালতের নতুন শিডিউল অনুযায়ী পরবর্তী শুনানির তারিখ ১২ মার্চ নির্ধারিত হয়েছে। এই তারিখের মধ্যে ধোনি নির্ধারিত তহবিলে অর্থ জমা না করলে অতিরিক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ধোনি ২০২০ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা সত্ত্বেও আইপিএলে সক্রিয় রয়েছেন। বর্তমানে তিনি ৪৪ বছর বয়সী এবং চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক হিসেবে দলকে পাঁচটি শিরোপা জয় করাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা আইপিএল ইতিহাসে রেকর্ড সংখ্যক শিরোপা। তার ক্যারিয়ার দীর্ঘদিনের সাফল্য ও জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও এই মানহানির মামলা তার সুনামকে প্রভাবিত করতে পারে।
আদালতের রায়ে উল্লেখিত রূপান্তর কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দোভাষী ও টাইপিস্টের খরচের সঠিক পরিমাণ এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে ধোনি এই অর্থ দ্রুত জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। মামলার মূল বিষয়, অর্থাৎ ধোনির আইপিএল স্পট‑ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ, এখনও আদালতে সম্পূর্ণভাবে বিচারাধীন।
ধোনি এই মামলায় তার সুনাম রক্ষার জন্য সব প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি অতীতে একাধিকবার মিডিয়া সংস্থার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করে সফল ফলাফল পেয়েছেন, যা তার আইনি কৌশলকে শক্তিশালী করে তুলেছে।
মাদ্রাজ হাইকোর্টের এই রায় ধোনির জন্য আরেকটি আইনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা তার ভবিষ্যৎ আইপিএল ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত সুনামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলা না হলে অতিরিক্ত জরিমানা বা শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
মামলার পরবর্তী পর্যায়ে আদালত রেকর্ডিংয়ের অনুবাদ ও ট্রান্সক্রিপশনের সঠিক খরচ নির্ধারণের পর ধোনির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে। এই প্রক্রিয়ার শেষে মামলাটি মূল বিষয়ের দিকে অগ্রসর হবে, যেখানে ধোনি এবং অভিযুক্ত মিডিয়া সংস্থাগুলোর যুক্তি-প্রতিযুক্তি শোনা হবে।
ধোনি বর্তমানে আইপিএল মৌসুমে চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন এবং তার নেতৃত্বে দলটি শীর্ষস্থানে রয়েছে। তার খেলাধুলার পারফরম্যান্স এবং আইনি বিষয়ের সমন্বয় ভবিষ্যতে ক্রীড়া জগতে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।



