১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের মুখোমুখি হয়ে ভোটভ্রষ্টাচারের ব্যাপক অভিযোগ তুলে ধরেছে। কুমিল্লা-৮, শরিয়তপুর-২ ও পটুয়াখালী-১সহ একাধিক নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রমাণ সংগ্রহের পর ভোটের অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দলটি চিফ ইলেকশন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে নির্বাচন ভবনে সাক্ষাৎ করে লিখিত পিটিশন ও শতাধিক ভিডিও রেকর্ডিংয়ের লিংক উপস্থাপন করেছে।
সাক্ষাৎকারের পর জামায়াত-এ-ইসলামি সহকারী সচিব জেনারেল মোয়াজেম হোসেন হেলাল মিডিয়াকে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন, তবে কতগুলো কেন্দ্রেই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে তা স্পষ্ট করেননি। তিনি উল্লেখ করেন যে কুমিল্লা-৮ নির্বাচনী এলাকায় জোটের পার্টি এজেন্টদের ৩০টি ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এই ঘটনার পরেও রিটার্নিং অফিসারকে জানানো সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান।
হেলাল আরও জানান, নোয়াখালি-৬ এলাকায় গত রাত থেকে রক্তাক্ত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে ঝালকাঠি ও শরিয়তপুরের কিছু ভোটকেন্দ্রেও জোটের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে, যা ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
জোটের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধরনের অনিয়মের ফলে নির্বাচনের ফলাফলকে বিকৃত করার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তাই তারা ভোটের অবিলম্বে স্থগিতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে তদন্তের ত্বরান্বিত করার দাবি জানাচ্ছে।
চিফ ইলেকশন কমিশনার নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতে জোটের প্রতিনিধিরা প্রমাণস্বরূপ ভিডিও রেকর্ডিংয়ের লিংকসহ বিশদ পিটিশন উপস্থাপন করেন। তবে এখনো কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা পদক্ষেপের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। যদি কমিশন দ্রুত তদন্ত না করে ভোট বন্ধের আদেশ না দেয়, তবে জোটের অভিযোগকে অবহেলা করা হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, জোটের দাবি অনুযায়ী যদি ভোটকেন্দ্রগুলোতে সত্যিই অনিয়ম ও সহিংসতা ঘটে থাকে, তবে তা সংশ্লিষ্ট এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার ঘাটতি নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে ভোটকেন্দ্রের তত্ত্বাবধান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন হতে পারে।
এই মুহূর্তে জোটের পক্ষ থেকে আরও কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি যে, কতগুলো ভোটকেন্দ্রেই ভিডিও রেকর্ডিং সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে তারা একশোয়েরও বেশি রেকর্ডিংকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে বলে জানানো হয়েছে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য জোটের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তারা আশা করছেন যে নির্বাচন কমিশন দ্রুত তদন্ত চালু করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, যাতে ভোটগ্রহণের সময় কোনো অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
যদি জোটের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুনরায় ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা, অথবা ভোটের ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের সম্ভাবনা উত্থাপিত হতে পারে। অন্যদিকে, যদি অভিযোগ অপ্রমাণিত থাকে, তবে জোটের এই দাবিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি, তবে জোটের পিটিশন ও প্রমাণের ভিত্তিতে তারা শীঘ্রই তদন্তের নির্দেশনা দিতে পারে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই ভোটের অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট হবে।
সামগ্রিকভাবে, ১১ দলীয় জোটের অভিযোগ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করছে। ভোটভ্রষ্টাচার ও সহিংসতার অভিযোগের সমাধান না হলে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করবে।



