দক্ষিণ কোরিয়ার আইনসভা সদস্যরা গোপনীয়তা সংরক্ষণে বিশেষ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস) থেকে জানেন যে, কিম জং উনের কন্যা দেশের শীর্ষ কর্মী পার্টির আসন্ন কংগ্রেসে উপস্থিত হলে তাকে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে এবং কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব তাকে দেওয়া হবে কিনা তা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এনআইএসের মতে, কিমের কন্যা কংগ্রেসে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা থাকলে, তার উপস্থিতি ও ভূমিকা সম্পর্কে বিশদ পরিকল্পনা গৃহীত হবে। সংস্থা বিশেষভাবে তার নাম, বয়স এবং পার্টির ভিতরে তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে মনোযোগ দিচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার শাসন কাঠামো গোপনীয়তায় মোড়া, তাই সরকার কখনও কিমের কন্যার নাম বা বয়স প্রকাশ করে না। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা বিশ্বাস করেন, তিনি জু আয়ে নামের মেয়ে, যার পরিচয় প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন বাস্কেটবল তারকা ডেনিস রডম্যানের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিল।
রডম্যান ২০১৩ সালে কিমের পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার সময় জু আয়ে-কে শিশুকালেই দেখেছিলেন এবং তাকে আলিঙ্গন করার কথাও উল্লেখ করেছিলেন। সেই সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে, দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জু আয়ে-কে কিমের কন্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এনআইএস পূর্বে জানিয়েছিল যে, কিম জং উনের কন্যাকে ভবিষ্যতে উত্তরসূরী হিসেবে প্রস্তুত করার কাজ চলছে। তবে সাম্প্রতিক ব্রিফিংয়ে সংস্থা প্রকাশ করেছে যে, এখন তার নাম জু আয়ে-কে পার্টির অভ্যন্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরসূরী হিসেবে মনোনয়নের প্রক্রিয়া চলছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইনজীবী লি সিওং-কিউয়ান এবং পার্ক সুন-ওন জানান যে, জু আয়ে-কে কার্যত দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি সরকারী অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন এবং নীতিগত বিষয়ে মতামত প্রদান করছেন, যা এনআইএসের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার শাসন দল আগামী মাসের শেষের দিকে নবম কংগ্রেসের উদ্বোধনী অধিবেশন পরিচালনা করবে। এই কংগ্রেসে দেশের অর্থনৈতিক নীতি, বৈদেশিক সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা কৌশলসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নির্ধারিত হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
একই সময়ে, কিম জং উন পারমাণবিক চালিত ৮,৭০০ টন ওজনের একটি বৃহৎ সাবমেরিনের নির্মাণে কাজ করছেন বলে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে। এই সাবমেরিনটি সর্বোচ্চ দশটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম হতে পারে, যা নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
গোয়েন্দা সংস্থার এই তথ্যগুলো নির্দেশ করে যে, উত্তর কোরিয়া নেতৃত্বের উত্তরাধিকার পরিকল্পনা এবং সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধির দুটোই সমান্তরালে অগ্রসর হচ্ছে। কংগ্রেসের ফলাফল এবং সাবমেরিনের চূড়ান্ত ক্ষমতা নির্ধারণের পরবর্তী ধাপগুলো উভয় দেশের নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলবে।



