21 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যফিলিপাইনে ডেভিল কাঁকড়া খাওয়ায় ৫১‑বছরী ফুড ভ্লগার মারা গেছেন

ফিলিপাইনে ডেভিল কাঁকড়া খাওয়ায় ৫১‑বছরী ফুড ভ্লগার মারা গেছেন

৪ ফেব্রুয়ারি, ফিলিপাইনের পুয়ের্তো প্রিন্সেসা শহরের একটি ম্যানগ্রোভ অরণ্য থেকে সামুদ্রিক খাবার সংগ্রহের সময় ৫১ বছর বয়সী ফুড ভ্লগার এমা অমিত অজান্তে ডেভিল কাঁকড়া (টক্সিক রিফ ক্র্যাব) গ্রহণ করেন। তিনি ভিডিও তৈরির জন্য বিভিন্ন সীফুডের স্বাদ নেয়ার চেষ্টা করছিলেন, যা সামাজিক মাধ্যমে দর্শকসংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে করা হয়।

কাঁকড়া খাওয়ার পরপরই, এমার শারীরিক অবস্থায় দ্রুত অবনতি দেখা দেয়। পরের দিন তার ঠোঁট নীল রঙে রূপান্তরিত হয় এবং নিয়মিতভাবে খিঁচুনি শুরু হয়। রোগের অগ্রগতি দ্রুত হওয়ায় তাকে অচেতন অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পরেও চিকিৎসক দল যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও, নিউরোটক্সিনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে না এসে এমা অমিতের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তার মৃত্যু ফিলিপাইনের মিডিয়ায় ব্যাপক শোকের স্রোত তৈরি করে।

স্থানীয় গ্রামপ্রধান ল্যাডি গেমাং জানান, এমা ও তার স্বামী দুজনই বহু বছর ধরে মাছ শিকারের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ছিলেন। সমুদ্রের তীরে বসবাসের পরেও কেন তারা এত বিপজ্জনক কাঁকড়া খেয়েছেন, তা এখনও অজানা রয়ে গেছে।

বিজ্ঞানীরা ডেভিল কাঁকড়াকে বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে একটি হিসেবে চিহ্নিত করেন। এর মাংস ও শেল থেকে স্যাক্সিটক্সিন এবং টেট্রোডোটক্সিন নামক শক্তিশালী নিউরোটক্সিন নির্গত হয়, যা পটকা মাছের বিষের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

স্যাক্সিটক্সিন ও টেট্রোডোটক্সিন উভয়ই স্নায়ু কোষের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে শ্বাসপ্রশ্বাস ও স্নায়ুতন্ত্রকে অচল করে দেয়। ক্ষুদ্র পরিমাণে এই টক্সিনের সংস্পর্শে একজন প্রাপ্তবয়স্কের শ্বাসযন্ত্র দ্রুত বন্ধ হয়ে যেতে পারে, ফলে শ্বাসকষ্ট ও হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতা দেখা দেয়।

নিউইয়র্ক পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইনে ডেভিল কাঁকড়া খাওয়া রোগীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই মৃত্যুবরণ করেন। যদিও সঠিক সংক্রমণ হার অঞ্চলভেদে পরিবর্তিত হতে পারে, তবে সামান্য মাত্রার বিষেরও প্রাণঘাতী প্রভাব থাকতে পারে বলে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

ঘটনা ঘটার পর পুয়ের্তো প্রিন্সেসা শহরের প্রশাসন জরুরি সতর্কতা জারি করে। তারা স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দেয় যে উজ্জ্বল রঙের এই কাঁকড়া শিকারের কোনো অবস্থাতেই অনুমোদিত নয় এবং তা খাওয়াও নিষিদ্ধ।

অধিকন্তু, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাঁকড়া সংগ্রহ, বিক্রয় ও ভোগের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই ধরনের বিষাক্ত সামুদ্রিক প্রাণীর ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং অজানা প্রজাতি গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিশেষ করে ভিডিও বা সামাজিক মিডিয়ার জন্য খাবার সংগ্রহের সময় বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও স্থানীয় নির্দেশিকা মেনে চলা উচিত।

আপনার কি কখনও অনিরাপদ সীফুডের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে? নিরাপদ খাবার নির্বাচন ও সঠিক তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব—আপনার মতামত শেয়ার করুন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments