দ্বিতীয় দিন বিকেল ৩:৫০টায় জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর শাফিকুর রহমান তার নিশ্চিত ফেসবুক পেজে পোস্ট করে জানান, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিভিন্ন এলাকায় জাল ভোটের প্রচেষ্টা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, গতকাল থেকে ভোটাররা গুজবের মোকাবিলা করে ভোটদানকে উৎসবের মতো পালন করেছে, তবে এখন কিছু স্থানে ভোটার তালিকা ও ভোটপত্র চুরি করার চেষ্টা বাড়ছে।
শাফিকুরের পোস্টে বলা হয়েছে, কিছু ভোটকেন্দ্রে ভোটদাতা ও কর্মীকে আক্রমণ করা হয়েছে, নারীদের ওপর হয়রানি করা হয়েছে এবং কেন্দ্রে দখল করার চেষ্টাও দেখা গেছে। তিনি এসব ঘটনার বিরুদ্ধে তৎপরতা দাবি করে ভোটারদের ভোট রক্ষা করতে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানান।
অধিকন্তু, তিনি ভোটের ফলাফল ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত ভোটকে রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে, “আপনাদের ভোটকে রক্ষা করুন, যেন কেউ আপনার মূল্যবান ভোট চুরি না করতে পারে” বলে জোর দেন। তিনি প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ করেন, নির্বাচনী পরিবেশ ন্যায়সঙ্গত রাখতে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে।
শাফিকুরের মতে, কিছু গোষ্ঠী কেন্দ্রে দখল ও ভোটপত্র চুরি করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি এসব ষড়যন্ত্র দমন করতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন এবং জনগণের বিশ্বাস রক্ষার জন্য সকলকে একসাথে কাজ করতে আহ্বান জানান।
দুপুর ২টায় ঢাকা-১৫ নম্বর নির্বাচনী অফিসে শাফিকুর একটি ব্রিফিংয়ে দেশের জন্য “একটি ভাল নির্বাচন”ের আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যদি সশস্ত্র বাহিনী তাদের দায়িত্ব সৎভাবে পালন করে, তবে আজকের শেষ পর্যন্ত দেশকে একটি সুষ্ঠু ভোটদান এবং নির্বাচন অর্জন করতে হবে”।
ব্রিফিংয়ে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর কাজের প্রশংসা করে, তাদেরকে আরও সতর্ক ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটদান প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম না ঘটতে হলে সকল সংস্থার সমন্বিত কাজ প্রয়োজন।
শাফিকুরের মন্তব্যের পর নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় এখনও অশান্তি ও হিংসা রোধে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
প্রশাসন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে কোনো অননুমোদিত প্রবেশ বা হিংসাত্মক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শাফিকুরের পোস্টে উল্লেখিত নারীর ওপর হয়রানি ও কর্মী আক্রমণের ঘটনা স্থানীয় মিডিয়ায়ও প্রকাশ পেয়েছে। স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগগুলো তদন্তের অধীনে রাখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এই সময়ে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তারা ভোটদাতাদের সতর্কতা ও আইনগত সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে ভোটের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন, এটাই শাফিকুরের শেষ বার্তা। তিনি ভোটারদেরকে “ভোটের রক্ষক” হিসেবে কাজ করতে এবং কোনো ধরনের জালিয়াতি বা হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে আহ্বান জানান।
নির্বাচনী কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটগণনা প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, ভোটদানের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।
শাফিকুরের মন্তব্যের পরবর্তী দিনগুলোতে, ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত গার্ড ও সিভিল গার্ডের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



