২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় ঢাকা-৬ নির্বাচনী এলাকার তিনটি ভোটকেন্দ্রে মাত্র চার ঘণ্টা ত্রিশ মিনিটে গড়ে ২০ শতাংশের বেশি ভোটগ্রহণ রেকর্ড করা হয়। একই সময়ে এক ভোটার, সাজ্জাত আলি, ভোটদান শেষে কর্মীদের কাছ থেকে জানেন যে তার ভোট ইতিমধ্যে গোনা হয়েছে, যদিও তিনি তখনই কাগজে ভোট দিলেন। এই মন্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সূত্রপাত করে।
সাজ্জাত আলি, যিনি ওই নির্বাচনী এলাকার একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী, ভোটদান শেষে জানালেন যে তিনি ভোটের কাগজ হাতে নিলেন এবং তা পোলিং স্টেশনে জমা দিলেন, কিন্তু স্টাফের এক মন্তব্যে তাকে জানানো হয় যে তার ভোট ইতিমধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার পরামর্শদাতা ও সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি জানান যে, ভোটকেন্দ্রের সকল রেকর্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে আপডেট হয় এবং কোনো ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৬-এ মোট ভোটগ্রহণের হার দেশের গড়ের চেয়ে বেশি ছিল এবং কোনো ব্যাপক ত্রুটি রিপোর্ট করা হয়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, ভোটগ্রহণের প্রাথমিক পর্যায়ে উচ্চ টার্নআউটের ফলে কিছু ভোটারকে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগে ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, জামাতের (Jamaat) স্থানীয় শাখা এই ঘটনাকে ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেছে। তারা দাবি করে যে, ভোটকেন্দ্রের ত্রুটি বা সিস্টেমের ত্রুটির সম্ভাবনা যাচাই না করা পর্যন্ত ফলাফল গ্রহণ করা উচিত নয়। জামাতের প্রতিনিধিরা নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আপিলের সম্ভাবনা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে আরও তদারকি চায়।
ইলেকশন কমিশনের উপ-কমিশনারও উল্লেখ করেন যে, ভোটকেন্দ্রের কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি নিয়মিতভাবে করা হয় এবং কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু হয়। তিনি বলেন, ভোটের রেকর্ডে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে চিহ্নিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা দ্রুত সমাধান করেন।
সাজ্জাত আলি এবং তার সমর্থকরা এই ঘটনার পর পুনরায় ভোটদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে এমন যেকোনো অনিয়ম দ্রুত প্রকাশ করা দরকার, যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে কাজ করে।
এই ঘটনা নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে রাজনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, ভোটের রেকর্ডে অস্বাভাবিক মন্তব্যের ফলে ভোটারদের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়তে পারে এবং পরবর্তী নির্বাচনে তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার চাহিদা বাড়বে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি এবং নির্বাচনী ফলাফল সরকারীভাবে স্বীকৃত হয়েছে।
ভবিষ্যতে ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ডিজিটাল রেকর্ডিং ও রিয়েল-টাইম মনিটরিং সিস্টেমের উন্নয়ন পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভোটকেন্দ্রের কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো এবং ভোটারদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
সাজ্জাত আলির অভিজ্ঞতা এবং জামাতের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা এখনই প্রয়োজনীয়। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন ধরনের অস্বস্তি এড়ানো সম্ভব হবে।



