বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছে, দেশের প্রথম নারী ফ্র্যাঞ্চাইজি টি২০ লিগ, উইমেন্স বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (ডব্লিউবিপিএল) এপ্রিল ৩ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। লিগটি নারী ক্রিকেটের পেশাদারীকরণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের শীর্ষ নারী খেলোয়াড়দের জন্য উচ্চমানের প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।
বিবিসি (BCB) এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে লিগের কাঠামো প্রকাশ করেছে। ডব্লিউবিপিএল-এ মোট তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল অংশগ্রহণ করবে। প্রতিটি দল নিজস্ব স্পনসর ও মালিকানার অধীনে গঠন করা হবে।
লিগের সময়সূচি ১৩ দিনের মধ্যে নির্ধারিত, যেখানে প্রতিটি দল একাধিক ম্যাচ খেলবে। টুর্নামেন্টের ফরম্যাট টি২০ আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করবে, ফলে দ্রুতগতির এবং আকর্ষণীয় ক্রিকেট উপভোগ করা যাবে।
এটি বাংলাদেশে নারী ক্রিকেটের প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি২০ প্রতিযোগিতা, যা বহু বছর আগে থেকেই খেলোয়াড় ও ভক্তদের স্বপ্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। এখন এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, যা দেশের ক্রীড়া পরিমণ্ডলে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
দলনেত্রী নিগার সুলতানা টুর্নামেন্টের জন্য উচ্ছ্বসিত হয়ে জানিয়েছেন, এটি দলকে আসন্ন আইসিসি মহিলা টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ডব্লিউবিপিএল নারী ক্রিকেটের পেশাদারী কাঠামোকে শক্তিশালী করবে।
আইসিসি মহিলা টি২০ বিশ্বকাপ শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে, এবং ডব্লিউবিপিএল এই বড় ইভেন্টের আগে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তরুণ প্রতিভা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আত্মবিশ্বাস অর্জন করবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারী ক্রিকেটের অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। লিগের আয়োজনে স্টেডিয়াম, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং মেডিক্যাল সাপোর্ট নিশ্চিত করা হবে।
খেলোয়াড়, কোচ এবং ভক্তরা লিগের সূচি প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল কোন কোন শহরে ভিত্তিক হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে স্থানীয় সমর্থন বাড়াতে বিভিন্ন অঞ্চলে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা।
ডব্লিউবিপিএল নারী ক্রিকেটের পেশাদারিকরণে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে, যা ভবিষ্যতে আরও স্পনসর এবং মিডিয়া মনোযোগ আকর্ষণ করবে। তদুপরি, তরুণী খেলোয়াড়দের জন্য ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ বাড়বে।
লিগের সফলতা নারী ক্রিকেটের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ভিত্তি হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের লক্ষ্য হল, ডব্লিউবিপিএলের মাধ্যমে দেশীয় স্তরে উচ্চমানের প্রতিযোগিতা স্থায়ী করা।
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিক অগ্রগতি দেখিয়েছে। ২০১৮ সালে এশিয়া কাপ জয় এবং ২০২০ সালে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ দলকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। এই সাফল্যগুলো ডব্লিউবিপিএল-এর ভিত্তি শক্তিশালী করেছে।
ডব্লিউবিপিএল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে টুর্নামেন্টের প্রচার বাড়িয়ে ভক্তদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। নারী ক্রিকেটের প্রতি বাড়তে থাকা আগ্রহ নতুন দর্শকসংখ্যা গড়ে তুলবে।
লিগের জন্য বেশ কয়েকটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্পনসর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। স্পনসরশিপের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে এবং খেলোয়াড়দের জন্য পুরস্কার তহবিল বৃদ্ধি পাবে। এ ধরনের বিনিয়োগ নারী ক্রীড়ার পেশাদারীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডব্লিউবিপিএল সফলভাবে সম্পন্ন হলে পরবর্তী মৌসুমে দলসংখ্যা বাড়িয়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দীর্ঘমেয়াদে নারী টি২০ লিগকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে চায়। এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের ক্রীড়া নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।
অবশেষে, এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া ডব্লিউবিপিএল নারী ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, যা দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতিতে সমান সুযোগের বার্তা বহন করবে। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বয়ে এই উদ্যোগের সাফল্য প্রত্যাশিত।



