চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় এক শিশুর ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তিন বছর বয়সী হাসান নামের শিশুকে পুকুরে ডুবে মারা যাওয়া নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনাটি খোরদ গ্রাম থেকে প্রতিবেদন করা হয়েছে।
অফিসার ইন চার্জ বানী ইসরাইলের মতে, শিশুটি হার্দি ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামে অবস্থিত পুকুরে ডুবে গিয়ে মৃত পাওয়া যায়। ডুবে যাওয়ার সময় প্রায় সকাল সাড়ে দশটায় ঘটেছে বলে জানা যায়।
হাসান ইসরাইল হোসেনের ছেলে, যিনি তিন বছর বয়সের। তার পরিবার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বসবাস করে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থল সম্পর্কে জানিয়েছেন।
হাসানের মা জামজ, তার স্বামী ইসরাইল হোসেনের সঙ্গে দু’টি সন্তান নিয়ে বাড়িতে ছিলেন। ভোটের দিন, জামজ ও স্বামী দুজনই ভোটদান করতে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন।
ভোটের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে জামজ প্রথমে হুসাইনকে ঘরে পেয়েছিলেন, তবে ছোট ভাই হাসানকে দেখতে পাননি। অনুপস্থিত শিশুর সন্ধানে পরিবার ঘোরাফেরা শুরু করে।
পরিবারের সদস্যরা আশেপাশের পুকুরে শিশুটির সন্ধান চালিয়ে গিয়ে পুকুরের কিনারায় শিশুটিকে ভাসতে দেখেন। শিশুটি পানির স্তরে ভেসে থাকা অবস্থায় দেখা গিয়েছিল।
স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটিকে পুকুর থেকে তোলা হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত চিকিৎসক শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাস পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করেন।
চিকিৎসকেরা সকল সম্ভাব্য চিকিৎসা সত্ত্বেও শিশুটির প্রাণ ফিরে পেতে পারেননি এবং তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত ঘোষণার পর পরিবার শোকাহত হয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
অফিসার ইন চার্জ বানী ইসরাইল উল্লেখ করেন, শিশুটি বাড়ির পাশে অবহেলিত পুকুরে ডুবে যাওয়ার ফলে মৃত্যু ঘটেছে। তিনি জানান, ঘটনাটি সবার অজান্তে ঘটেছে এবং কোনো অপরাধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে। মামলাটি অপারাধিক দায়িত্বের ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে এবং তদন্তের অধীনে রয়েছে।
অপমৃত্যু মামলার পাশাপাশি, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাস্থল ও পুকুরের নিরাপত্তা যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে তদন্ত চলমান, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের জানাতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মামলার অগ্রগতি আদালতে উপস্থাপিত হবে।



