সাম্প্রতিক গণভোটে ভোটারদের কাছ থেকে এক সেকেন্ডের মধ্যে ভোট দান করার কথা শোনা গেছে। প্রশ্নপত্র না পড়েই দ্রুত হ্যাঁ‑না চিহ্নিত করার এই প্রবণতা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দেখা গেছে। ভোটাররা কেন এবং কীভাবে এত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন, তা জানার জন্য কয়েকজন ভোটার তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।
শাজাহানপুরের ভোটার সুভা সিদ্দিকী বলছেন, তিনি মাত্র এক সেকেন্ডে ভোট দান সম্পন্ন করেছেন। তিনি প্রশ্নপত্র পড়ার প্রয়োজন অনুভব করেননি, মা যেখানে নির্দেশ দেন, সেখানেই ভোট দিয়েছেন। তার মতে, ভোটের জন্য দীর্ঘ সময় ব্যয় করা দরকার নেই।
মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ২২‑বছরের শিক্ষার্থীও একই রকম অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি ভোট দিতে গিয়ে প্রশ্নপত্রের বিষয়বস্তু না জেনে, এক সেকেন্ডের মধ্যে ভোট পত্রে চিহ্ন বসিয়ে শেষ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, ভোটের জন্য কোনো বিশ্লেষণ দরকার ছিল না, তিনি জানাশোনা অনুযায়ী ভোট দিয়েছেন।
একই কেন্দ্রে উপস্থিত আরেকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হ্যাপি আক্তারও একই কথা পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোট দিতে এক সেকেন্ডেরও বেশি সময় লেগে না; প্রশ্নপত্র পড়া তার জন্য অপ্রয়োজনীয় ছিল। তিনি জানেন যে, ভোটের সিদ্ধান্ত তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিয়েছেন।
শাজাহানপুর হাই স্কুল কেন্দ্রের ৬০‑বছরের ভোটার সামসুল আলমের মন্তব্যেও দ্রুত ভোটের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি প্রশ্নপত্রের হ্যাঁ‑না বুঝতে পারলেও, দুইটি ভোট একসাথে দিতে এক মিনিটেরও কম সময়ে কাজ শেষ করেছেন। তিনি ভোটের প্রক্রিয়াকে “এক জায়গায়” সম্পন্ন বলে বর্ণনা করেছেন।
এই ধরনের দ্রুত ভোটদান প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে। প্রশ্নপত্রের বিষয়বস্তু না পড়ে ভোট দেওয়া ভোটার সচেতনতার স্তর নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে, ভোটের বিষয়বস্তু এবং প্রার্থীর নীতি সম্পর্কে যথাযথ তথ্য না জানলে সিদ্ধান্ত নেওয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুণগত মানকে প্রভাবিত করতে পারে।
রাজনৈতিক দলগুলোও এই প্রবণতা লক্ষ্য করে ভোটার শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। যদি ভোটাররা প্রশ্নপত্রের বিষয়বস্তু না বুঝে দ্রুত ভোট দেন, তবে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করা নীতি ও প্রোগ্রাম সম্পর্কে জনমত গঠন কঠিন হয়ে পড়ে। তাই, ভবিষ্যতে ভোটার প্রশিক্ষণ ও তথ্যপ্রচারকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করা হতে পারে।
গণভোটের এই পর্যবেক্ষণ থেকে স্পষ্ট যে, ভোটারদের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব কাজ করছে। ভোটের সময়সীমা সংক্ষিপ্ত হওয়ায়, ভোটাররা প্রায়শই নির্দেশনা অনুসরণ করে, প্রশ্নপত্রের বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ না করে ভোট দেন। এই প্রবণতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা পরবর্তী পর্যায়ে বিশ্লেষণ করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, ভোটারদের এক সেকেন্ডে ভোট দানের দাবি ভোট প্রক্রিয়ার গতি ও ভোটার সচেতনতার মধ্যে একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে। নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে এই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে, ভোটারদের যথাযথ তথ্য সরবরাহ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।



