প্রিমিয়ার লিগের শেষ পর্যায়ে টটেনহ্যাম হটস্পার, অ্যানজে পোস্টেকোগলুর তত্ত্বাবধানে, টেবিলের নিচের দিকে নামার ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমান মৌসুমে দলটি ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ায় ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। পোস্টেকোগলু তৃতীয় মৌসুমে দলকে রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে সাম্প্রতিক ম্যাচের ফলাফল পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে।
গত সপ্তাহে টটেনহ্যাম চেলসির সঙ্গে লড়াইয়ে ১৪তম মিনিটে দ্রুত দুই গোলের সুবিধা পায়। প্রথম গোলটি ডেজান কুলুসেভস্কি (ইনজুরি) না থাকলেও, পাপে সারের পাসে ডেস্টিনি উডোগি (ইনজুরি) বলটি পেয়ে, ক্রিস্টাল প্যালেসের ব্রেন্যান জনসন বামফ্ল্যাঙ্কে দৌড়ে গিয়ে সোন হিউং-মিনের (এলএএফসি) সামনে প্রথম-সময়ে লেফট ফুটে পাস দেন, যার ফলে সোনের শট নেটকে ছুঁয়ে গোল হয়। তবে রেফারির সিদ্ধান্তে এই গোলটি অফসাইড বলে বাতিল করা হয়, কারণ সোনের অবস্থান অফসাইড লাইনের এক চতুর্থ ভাগের বেশি দূরে ছিল।
গোল বাতিলের পর ম্যাচটি তীব্রতা পায়। ক্রিস্টাল প্যালেসের ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (সাসপেন্ডেড) বক্সের মধ্যে একটি কঠোর ট্যাকল করেন, যার ফলে তিনি সরাসরি লাল কার্ড পান এবং মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হন। রোমেরোর এই রেড কার্ডের পর টটেনহ্যামের সংখ্যা কমে নয়জন হয়ে যায়। তদুপরি, জেমস মাডিসন (ইনজুরি) পুনরায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছেড়ে যান, যা দলের আক্রমণাত্মক বিকল্পকে আরও সংকুচিত করে।
দলটি উচ্চ লাইন বজায় রেখে খেলতে থাকে, যেখানে ইরিক ডিয়ার (মোনাকো) মাঝখানে উচ্চ লাইন গঠন করেন। যদিও টটেনহ্যাম কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে ২-২ সমতা আনতে চায়, তবে চেলসির প্রতিরক্ষা দৃঢ় থাকে এবং শেষ পর্যন্ত চেলসি ম্যাচটি জিতে নেয়। এই পরাজয় টটেনহ্যামের লিগ অবস্থানকে আরও দুর্বল করে, যা পুনরায় রিকভারি করার জন্য কোচের কৌশলগত পরিবর্তনকে প্রয়োজনীয় করে তুলেছে।
টটেনহ্যামের বর্তমান অবস্থার তুলনা করলে, নভেম্বর ২০২৩-এ দলটি লিগের শীর্ষে ছিল এবং পোস্টেকোগলু নেতৃত্বে গতিশীল, ফ্রি-ফ্লো ফুটবল প্রদর্শন করছিল। সেই সময়ে টটেনহ্যাম চেলসির বিরুদ্ধে ১-০ সুবিধা নিয়ে খেলা চালিয়ে গিয়েছিল, যেখানে ডেজান কুলুসেভস্কি ইনজুরির পরেও দলটি ভাল পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল পরিবর্তিত হয়ে এখন টেবিলের নিচের দিকে নামার ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে।
ইংলিশ ফুটবলের অন্যান্য দিকেও পরিবর্তন ঘটছে। ব্রেন্টফোর্ড, থমাস ফ্র্যাঙ্কের তত্ত্বাবধানে, বর্তমানে নাইনতম স্থানে রয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটি এবং প্রিমিয়ার লিগের ১০০-এর বেশি চার্জের সমাধান চলছে, এবং ভিএআর সিস্টেম বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কামালা হ্যারিস জয়লাভ করেছেন। এসব পরিবর্তন টটেনহ্যামের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ উভয়ই তৈরি করে।
টটেনহ্যামের পরবর্তী ম্যাচের সূচি এখনো প্রকাশিত হয়েছে, তবে কোচ পোস্টেকোগলু দলের রোস্টার পুনর্বিবেচনা এবং কৌশলগত সমন্বয় করার সম্ভাবনা বাড়ছে। দলটি বর্তমানে ইনজুরি সমস্যায় ভুগছে, বিশেষ করে কুলুসেভস্কি, উডোগি এবং মাডিসনের অবস্থার কারণে আক্রমণাত্মক বিকল্প সীমিত। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোস্টেকোগলু পুরনো খেলোয়াড়দের পুনরায় আহ্বান করার কথা ভাবতে পারেন, তবে তা বাস্তবায়ন করা হবে কিনা তা এখনও অনিশ্চিত।
সারসংক্ষেপে, টটেনহ্যাম চেলসির বিরুদ্ধে হারের পর লিগের নিচের দিকে ঝুঁকে আছে, এবং অ্যানজে পোস্টেকোগলুকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে। দলটি ইনজুরি ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সমস্যার সম্মুখীন, এবং রেড কার্ডের ফলে কম খেলোয়াড়ের সঙ্গে ম্যাচ পরিচালনা করতে হয়েছে। ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোতে ফলাফল নির্ভর করবে কোচের কৌশলগত পরিবর্তন, খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা এবং প্রতিপক্ষের শক্তির ওপর। টটেনহ্যামকে এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নতুবা লিগ থেকে অবনতি নিশ্চিত হতে পারে।



