ফেনী সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং এবিপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুরের বিরুদ্ধে দুইটি স্থানে হামলা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। প্রথম ঘটনা ঘটেছে লেমুয়া ইউনিয়নের মজুমদার হাটে, যেখানে তিনি শেখ মজিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করছিলেন। দ্বিতীয় ঘটনা ধর্মপুরের জোয়ার কাছাড় কেন্দ্রে, যেখানে তার নির্বাচনী এজেন্ট আনম আব্দুর রহিমকে আঘাত করা হয়।
লেমুয়া ইউনিয়নের মজুমদার হাটে দুপুরের সময় মঞ্জুরের দল কেন্দ্র পরিদর্শন করতে গিয়ে স্থানীয় কিছু কর্মীর সঙ্গে মুখোমুখি হয়। স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের নেতৃত্বে আব্দুল হান্নান ও শহিদ নামের দুইজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন এবং তারা মঞ্জুরের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্য করে। কথোপকথনের উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা মঞ্জুরের দিকে এগিয়ে যায়।
বক্তব্যের উত্তেজনা বাড়ার পর মঞ্জুরের সমর্থকরা তাকে ঘিরে ধরেন এবং সম্ভাব্য হামলা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। এই সময়ে মঞ্জুরের একজন সমর্থক তালহা নামের ব্যক্তি, যাকে স্থানীয় কর্মীরা আক্রমণ করে, তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপের আগে কিছু সময়ের জন্য সংঘর্ষ চলতে থাকে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে বিএনপি দলের কিছু স্থানীয় নেতা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। বিশেষ করে আব্দুল হান্নান ও শহিদকে কর্মীদের নেতৃত্বে দেখা যায়, যারা মঞ্জুরের প্রতি আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে এবং শারীরিকভাবে তাকে তাড়া করার চেষ্টা করে। তবে এই ঘটনার পরে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি।
সংঘর্ষের পর অবিলম্বে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে হিংসা থেমে যায় এবং মঞ্জুরের দল নিরাপদে স্থান ত্যাগ করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু লোকের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপই পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া থেকে রোধ করেছে।
ধর্মপুরের জোয়ার কাছাড় কেন্দ্রে একই সময়ে আরেকটি আক্রমণ ঘটে। মঞ্জুরের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আনম আব্দুর রহিমকে অপর পক্ষের আক্রমণে আহত করা হয় এবং তার গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়। এই আক্রমণেও স্থানীয় কিছু কর্মী যুক্ত ছিল বলে জানা যায়।
আবদুর রহিমের গাড়িতে ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি তার শারীরিক আঘাতের খবর মঞ্জুরের দল দ্রুত জানায়। গাড়ির ভাঙচুরের ফলে গাড়ির সামনে ও পেছনের অংশে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে, যা পুনরুদ্ধার করতে অতিরিক্ত সময় ও খরচের প্রয়োজন হবে। আহত এজেন্টের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে তিনি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছেন।
এবিপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম বাদল এই দুই ঘটনার দায়িত্ব স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ওপর আরোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, লেমুয়া ও ধর্মপুরে সংঘটিত হামলা চেষ্টার পেছনে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পরিকল্পনা ও সমন্বয় রয়েছে এবং এই ধরনের হিংসা রাজনৈতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিএনপি পক্ষ থেকে এই অভিযোগের প্রতি কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানানো হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট নেতারা ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উত্তেজনা হিসেবে ব্যাখ্যা করে এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এই মুহূর্তে উভয় দলের মধ্যে সরাসরি কোনো সংলাপের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
এই দুইটি ঘটনার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফেনী সদর ও ধর্মপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় হিংসা বৃদ্ধি পেলে ভোটারদের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়তে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। উভয় দলই এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, এই ধরনের সংঘর্ষের ফলে উভয় দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়বে এবং নির্বাচনী প্রচারণা আরও তীব্র হবে। বিশেষ করে এবিপি ও বিএনপি উভয়েরই এই এলাকায় শক্তিশালী সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে, ফলে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা বাড়তে পারে।
সামগ্রিকভাবে, লেমুয়া ও ধর্মপুরে ঘটিত হামলা চেষ্টার ঘটনা রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করে তুলেছে এবং নিরাপত্তা সংস্থার দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। উভয় দলই নিজেদের সমর্থকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে বলে আশা করা যায়।



