21 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকনাইল নদীর ওপর নৌকা ডুবে ২১ জনের মৃত্যু, প্রায় ৩০ জন যাত্রী...

নাইল নদীর ওপর নৌকা ডুবে ২১ জনের মৃত্যু, প্রায় ৩০ জন যাত্রী জড়িয়ে

উত্তর সুদানের রিভার নাইল রাজ্যে বুধবার সন্ধ্যায় একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু ঘটেছে, আর ছয়জন বেঁচে গেছেন। নৌকাটি তায়বা আল-খাওয়াদ ও ডেইম আল-কারাই গ্রামগুলোর মধ্যে চলছিল এবং এতে নারী, বয়স্ক ও শিশুরা সহ প্রায় ত্রিশজন যাত্রী ছিলেন।

স্থানীয় চিকিৎসক নেটওয়ার্কের মুখপাত্র ডঃ মোহাম্মদ ফয়সাল হাসান জানান, উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং আরও দেহ পাওয়া যেতে পারে। রিভার নাইল রাজ্যের কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২১টি দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে।

সাক্ষীদের মতে, শেন্ডি এলাকার নিকটবর্তী উচ্চ তরঙ্গের কারণে নৌকাটি উল্টে যায়। নৌকা ডুবে যাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধার দল现场ে পৌঁছে, তবে প্রাথমিকভাবে মাত্র ছয়জনকে বেঁচে থাকার তথ্য পাওয়া যায়।

চিকিৎসক নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বিশেষায়িত উদ্ধার দল ও সরঞ্জাম পাঠিয়ে অনুসন্ধান দ্রুততর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, নদী পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ মানবিক ট্র্যাজেডি রোধ করা যায়।

ডঃ হাসান আরও উল্লেখ করেন, নদীর ওপর চলাচলকারী নৌকাগুলোর নিয়ন্ত্রণের অভাব এই দুর্যোগে ভূমিকা রাখে। বেশিরভাগ নৌকা ব্যক্তিগত মালিকানায় এবং সরকারী নিরাপত্তা মানদণ্ডের পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান নেই।

সুদানের গ্রামীণ এলাকায় সেতুর অভাবের কারণে নাইল নদী পারাপারের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ঐতিহ্যবাহী নৌকা ব্যবহার করা হয়। তবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা চেক না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।

দক্ষিণে চলমান গৃহযুদ্ধের প্রভাবেও এই ঘটনা প্রাসঙ্গিক। এপ্রিল ২০২৩ থেকে সুদানীয় সেনাবাহিনী ও দ্রুত সহায়তা বাহিনী (RSF) এর মধ্যে সংঘর্ষ দেশকে বিশাল মানবিক সংকটে ফেলেছে, বিশেষ করে রাজধানী খার্তুম ও দারফুরের মতো অঞ্চলগুলোতে।

যুদ্ধের ফলে মৌলিক সেবা ব্যাহত হয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ স্থানচ্যুত হয়েছে এবং অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। যদিও রিভার নাইল রাজ্য সাময়িকভাবে সামরিক সংঘর্ষ থেকে দূরে রয়ে গেছে, তবে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থির।

এই দুর্ঘটনা দেশের নদী পরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতা উন্মোচন করেছে। সরকারকে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করে নৌকা লাইসেন্স, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন।

অধিকাংশ স্থানীয় বাসিন্দা নৌকা ডুবে যাওয়ার পর তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ গ্রাম ও শহরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সাহায্য চেয়েছেন। উদ্ধারকাজে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও মেডিকেল টিম সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে।

এই ঘটনার পর সরকারী সংস্থাগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে নদী পারাপারের জন্য সেতু নির্মাণ ও নিরাপদ পরিবহন বিকল্প তৈরি করার পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করতে, যাতে মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় নির্ভর করতে না হয়।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments