বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় একটায় চট্টগ্রাম-৪ আসনের জঙ্গল সলিমপুরে ভোটের কাজ শুরু হয়। সীতাকুণ্ড উপজেলার এই গ্রামটি সরকারি পাহাড় কেটে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বসতিগুলোর মধ্যে অবস্থিত, যেখানে পূর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণ ঘটেছে। তবে আজকের ভোটের সময় কোনো বাধা বা হিংসা দেখা যায়নি।
জঙ্গল সলিমপুরের অধিকাংশ বাসিন্দা অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্লটের ওপর নির্ভরশীল, ফলে এলাকায় নিয়মিত সংঘর্ষের ঝড় তোলা হয়। দুইটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে অতীতে বহুবার হিংসাত্মক মোকাবিলা হয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এমন পরিবেশে ভোটের দিনেও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল, তবে ভোটারদের প্রবেশে কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি। ভোটের সময়সূচি অনুযায়ী সকাল আটটায় বেশ কয়েকজন ভোটার ভোটকেন্দ্রের দিকে রওনা হন।
বায়েজিদ বোস্তামীর সড়ক থেকে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী লিংক রোডে অর্ধ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। কেন্দ্রে পৌঁছানোর পথে গাছের ছায়া এবং ধানের শীষের মাঝখানে ভোটারদের গুঞ্জন শোনা যায়।
কেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকরা ধান শীষ, দাঁড়িপাল্লা, হাতপাখা ইত্যাদি সামগ্রী নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। ভোটারদের ভিড়ের কারণে কেন্দ্রে প্রবেশের আগে অপেক্ষা সময় বাড়ে, তবে কোনো অশান্তি দেখা যায়নি।
ভোটকেন্দ্রের ভিতরে পুরুষ ও নারীর জন্য পৃথক সারি গঠন করা হয়। নারীদের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, “সকাল আটটায় ভোট দিতে এসেছি, তবে ভিড়ের কারণে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারিনি।” তার কথায় ভোটের আগে কিছুটা উদ্বেগের স্বর শোনা যায়।
কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসা রোকিয়া বেগমও একই রকম অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, “ভোট দিতে আসার আগে কিছুটা আতঙ্ক কাজ করেছে, তবে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেল।” তার বিবরণে ভোটের পরিবেশের শান্তি স্পষ্ট হয়।
অবৈধ বসতি নিয়ে এলাকার দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কথা স্থানীয় বাসিন্দারা উল্লেখ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত প্রতিনিধি এই সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেবেন এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করবেন।
আনোয়ারা বেগমের মতে, “আমরা চাই আমাদের এলাকা সবসময় শান্ত থাকুক। কে বৈধ, কে অবৈধ বসতিতে, তা আমরা পরিষ্কারভাবে জানি না, তবে সরকার যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় তবে উচ্ছেদ সমস্যার সমাধান হবে।” তার এই মন্তব্যে স্থানীয় জনগণের সরকারের প্রতি প্রত্যাশা প্রকাশ পায়।
বয়স্ক ভোটার রফিকুল ইসলামও ভোটের সময় কোনো সমস্যা না হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছি, কোনো বাধা বা হিংসা হয়নি। আমরা চাই আমাদের এলাকায় উচ্ছেদ না হয়, কারণ তা আমাদের জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলবে।” তার কথায় নিরাপত্তা ও বাসস্থানের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ইচ্ছা স্পষ্ট।
সামগ্রিকভাবে, জঙ্গল সলিমপুরে ভোটের দিনটি কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। পূর্বের হিংসা ও সংঘর্ষের পরেও ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের অধিকার ব্যবহার করেছেন।
ভবিষ্যতে নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি এলাকার অবৈধ বসতি ও গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমঝোতা গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেন, তবে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও উন্নয়নের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। এই ভোটের ফলাফল স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধি এবং নিরাপত্তা নীতির ওপর প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।



