পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ২২৫ রানের মোট স্কোরে ৫ উইকেটের সঙ্গে ওমানকে পরাজিত করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ রেকর্ড স্থাপন করেছে। টস জিতে শ্রীলঙ্কা ব্যাটিংয়ে পাঠায় এবং প্রথমে ওমানের মুখে হাসি দেখা যায়।
শুরুতে শ্রীলঙ্কা ১৫ রানে প্রথম উইকেট হারায়, এরপর ৪২ রানে দ্বিতীয় উইকেট নষ্ট হয়। প্রাথমিক ক্ষতি সত্ত্বেও মাঝারি অংশে দলটি স্থিতিশীলতা বজায় রাখে এবং রথনায়েকে, শানাকা ও মেন্ডিসের আক্রমণাত্মক খেলা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
পাভিন রথনায়েকে ২৮ রান সংগ্রহ করেন, ৬০ বলের মধ্যে ৮টি চারের এবং একটি ছক্কা মারেন। তার ধীর গতি ও সঠিক শটের সমন্বয় শ্রীলঙ্কার মোট স্কোরে স্থিতিশীলতা এনে দেয়। রথনায়েকের পারফরম্যান্সকে কোচ প্রশংসা করে বলেছিলেন, “তার ধৈর্য্যপূর্ণ ইনিংস আমাদেরকে বড় স্কোরের ভিত্তি তৈরি করেছে।”
দাসুন শানাকা ২০ রান তৈরি করেন, ৫০ বলের মধ্যে ২টি চার এবং ৫টি ছক্কা মারেন। শানাকার আক্রমণাত্মক পদ্ধতি দ্রুত রেট বাড়িয়ে দেয় এবং দলের আক্রমণকে ত্বরান্বিত করে। শানাকা নিজে বলেছিলেন, “দলকে বড় স্কোরে নিয়ে যাওয়া আমাদের দায়িত্ব, এবং আজ আমরা তা সম্পন্ন করেছি।”
কুশল মেন্ডিস ৪৫ রান যোগ করেন, ৬১ বলের মধ্যে ৭টি চার মারেন। তার মাঝারি গতি ও শক্তিশালী শটগুলো স্কোরের ধারাকে ধারাবাহিক রাখে। মেন্ডিসের পারফরম্যান্সের পর কোচ মন্তব্য করেন, “কুশল আমাদের মাঝারি অর্ডারকে শক্তিশালী করেছে, যা টার্গেট অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
শেষে কামিন্দু মেন্ডিস ৭ রান তৈরি করেন, ১৯ বলের মধ্যে দ্রুত গতি বজায় রাখেন। যদিও তার স্কোর কম, তবে শেষের ওভারগুলোতে তিনি দ্রুত রান সংগ্রহ করে দলকে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে রাখেন।
ওমানের দিক থেকে রামানন্দি দুইটি উইকেট নেয়, যা শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংকে কিছুটা চাপের মধ্যে রাখে। তবে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিকতা ও পার্টনারশিপ ওমানের আক্রমণকে সীমাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়।
শ্রীলঙ্কার ২২৫ রানের মোট স্কোর দক্ষিণ আফ্রিকা এ রেকর্ড করা ২১৩ রানের পার্টনারশিপকে অতিক্রম করে নতুন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলীয় সর্বোচ্চ স্কোর হিসেবে স্থান পায়। এই রেকর্ডটি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
দলীয় ক্যাপ্টেন ম্যাচের পর মিডিয়ার সামনে বলেন, “আজকের পারফরম্যান্স আমাদের প্রস্তুতির ফল, এবং আমরা টুর্নামেন্টে আরও উচ্চতর লক্ষ্য রাখছি।” কোচও যোগ করেন, “দলটি শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে খেলেছে, এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
শ্রীলঙ্কা টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত গ্রুপ পর্যায়ে শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখেছে এবং পরবর্তী ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। দলটি পরবর্তী রাউন্ডে নতুন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যা টুর্নামেন্টের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
শ্রীলঙ্কার এই জয় টিমের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ ম্যাচে আরও বড় স্কোরের সম্ভাবনা নির্দেশ করে। দলটি এখন পর্যন্ত গৃহীত কৌশল ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সকে ভিত্তি করে পরবর্তী পর্যায়ে অগ্রসর হবে।
সারসংক্ষেপে, শ্রীলঙ্কা ২২৫ রানের স্কোরে ওমানকে পরাজিত করে নতুন রেকর্ড গড়ে তুলেছে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। দলটি এখন পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং টুর্নামেন্টে শীর্ষে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখছে।



