১৩তম জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম চলাকালীন ভোট কেলেঙ্কারির অভিযোগে তিনটি জেলায় চারজনকে আজ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া ও হাবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত বিচার শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যথাক্রমে তিন, তিন ও দুই বছরের কারাদণ্ড পেয়ে আদালত নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।
পঞ্চগড়ের আতওয়ারি উপজেলায় জাটিয়া যুবশক্তি ইউনিটের সমন্বয়কারী সুকুমার দাশ, ৪৪, ফকিরগঞ্জ ক্রিস্টিয়ান পাড়া বাসিন্দা, নির্বাচনী নমুনা পত্রধারী হওয়ার অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। আতওয়ারি পাইলট হাইস্কুলের ভোটকেন্দ্রে সকাল দশটায় তিনি ও দুইজন সহচরকে নমুনা পত্রের বান্ডেল নিয়ে উপস্থিত হওয়া দেখা যায়। বিএনপি সমর্থকরা তাকে আটক করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তে হস্তান্তর করেন। সহকারী জজ রানা পারভেজের অধিক্ষেত্রের সংক্ষিপ্ত বিচার শেষে দাশকে ১০,০০০ টাকার জরিমানা আরোপ করা হয় এবং তিনি পঞ্চগড় জেলে পাঠানো হয়।
কুষ্টিয়ার মিরপুর-ভেরামারার কুস্টিয়া‑২ (তালবাড়িয়া) নির্বাচনী এলাকায় তলবাড়িয়া হাইস্কুলের ভোটকেন্দ্র থেকে ভোট পত্র নিয়ে পালানোর চেষ্টা করা শাহীনের মামলা মোবাইল আদালতে শোনা হয়। নওদা গোবিন্দপুর গ্রাম, মিরপুর উপজেলার বাসিন্দা শাহীনের উপর তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ১,০০০ টাকার জরিমানা আরোপ করা হয়। মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম জানান, শাহীনের লক্ষ্য ছিল ভোট বাক্সে শূন্য পত্র ঢোকিয়ে আসল ভোট পত্রটি চুরি করা, তবে তিনি现场ই আটক হন এবং স্বীকারোক্তি করার পর দণ্ডিত হন।
হাবিগঞ্জের হাবিগঞ্জ‑২ নির্বাচনী এলাকায় ভোটকেন্দ্রে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগে মোবাইল আদালতে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়া আরেকজন যুবক হলেন নাসির। বানিয়াচং উপজেলার মান্দারী গ্রাম থেকে আসা নাসিরের বিরুদ্ধে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথি জানান, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুর বাসিত আজাদ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে এবং নাসিরের অংশগ্রহণে হিংসাত্মক ঝগড়া হয়। আদালত নাসিরকে জরিমানা আরোপ করে না, তবে দুই বছরের কারাদণ্ড নিশ্চিত করা হয়।
সামগ্রিকভাবে, চারজনকে সাজা দেওয়া হলেও এই প্রতিবেদনে তিনজনের নাম ও অপরাধের বিশদ উল্লেখ করা হয়েছে। সকল অভিযুক্তকে সংশ্লিষ্ট জেলায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আরোপিত জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নির্বাচনী কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের কেলেঙ্কারির প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন।



