ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটদান ও গণভোটের সময় চট্টগ্রাম, খুলনা, মানিকগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চারটি ভোটকেন্দ্রে মোট চারজনের মৃত্যু ঘটেছে। এদের মধ্যে তিনজন হঠাৎ অসুস্থ বোধের পর মারা গেছেন, আর একজনকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাগুলি নির্বাচনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায় ভোটকেন্দ্র নং-৫১-এ কাজ করছিলেন ৪৮ বছর বয়সী মুজাহিদুল ইসলাম। তিনি বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ৯টায় হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের মতে, মুজাহিদুলের মৃত্যু মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে ঘটেছে বলে চিকিৎসক ধারণা করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এমন ঘটনা ভোটকেন্দ্রের কাজের সময় শারীরিক চাপের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
খুলনা শহরে আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি একটি বাগবিতণ্ডা ঘটায় ৫৫ বছর বয়সী মহিবুজ্জামান কচি, যিনি পূর্বে খুলনা নগর বিএনপি দপ্তর সম্পাদক ছিলেন, মারা যান। বিএনপি দাবি করে যে তিনি জামাতের একজন নেতার ধাক্কা দেওয়ার ফলে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মারা গেছেন। অন্যদিকে জামাতের প্রতিনিধিরা বলেন, তিনি উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে মারা গেছেন।
সদর থানা এসআই খান ফয়সাল রাফি ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই দলের সমর্থকদের আলাদা করেন এবং জানান, ওই সময় কোনো শারীরিক ধাক্কা বা হাতাহাতি ঘটেনি, বরং একজনকে অটোরিকশায় করে বাইরে নিয়ে যাওয়া দেখা গিয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
মানিকগঞ্জের মহাদেবপুরে ভোটদান চলাকালে ৬৫ বছর বয়সী বাবু মিয়া, মহাদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, মারা যান। তিনি শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সামনে টোকেন নিয়ে ভোটের জন্য প্রবেশের সময় মাথা ঘুরে পড়ে যান।
প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, বাবু মিয়া পড়ে যাওয়ার পরই তার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু ঘটে। তার পরিবারে উপস্থিত ছিলেন তার ছেলে রাজু মিয়া, যিনি ঘটনাটির শোক প্রকাশ করেছেন।
এই চারটি মৃত্যুর পর নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা বাহিনী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। উভয় প্রধান রাজনৈতিক দলও ভোটদানের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতা দাবি করেছে, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।



