ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা মাহনাজ মোহাম্মাদি তার দ্বিতীয় কল্পনাপ্রসূত ফিচার ‘রোয়া’কে বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্যানোরামা বিভাগে শনিবার বিশ্বপ্রদর্শনীতে উপস্থাপন করবেন। এই কাজটি তিনি গোপনে সম্পন্ন করেছেন, কারণ বহু বছর ধরে সরকার তাকে চলচ্চিত্র নির্মাণের অনুমতি থেকে বঞ্চিত করেছে।
মোহাম্মাদি, যিনি পূর্বে রাজনৈতিক মতবাদের কারণে ইভিন কারাগারে আটক ছিলেন, তার নিজের অভিজ্ঞতা ‘রোয়া’র কাহিনীর ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ছবিতে তেহরানের ইভিন কারাগারের এক ছোট সেল‑এর তিন বর্গমিটারের সীমাবদ্ধতায় একজন শিক্ষিকা রোয়াকে দেখানো হয়েছে, যাকে অথবা টেলিভিশনে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি দিতে হবে, অথবা সেই সেলে আটকে থাকতে হবে।
ফিল্মটি একাকী কারাবাসের মানসিক প্রভাব, স্মৃতি ও পরিচয়ের পরিবর্তন এবং ক্ষমতার কাঠামো কীভাবে বন্দীদের আত্মবিশ্বাসকে ক্ষয় করে তা অনুসন্ধান করে। এই থিমগুলো সাম্প্রতিক ইরানে ঘটিত বিশাল প্রতিবাদ এবং সরকারের কঠোর দমন নীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, যেখানে হাজারো demonstrator গ্রেফতার ও নিহত হয়েছে।
‘রোয়া’তে প্রধান ভূমিকায় তুর্কি অভিনেত্রী মেলিসা সোজেন অভিনয় করেছেন, যিনি নুরি বিলগে সেলান পরিচালিত ‘উইন্টার স্লিপ’ এবং ফরাসি টিভি সিরিজ ‘দ্য ব্যুরো’তে পরিচিত। তার পাশাপাশি মেরিয়াম পালিজবান, হামিদরেজা দজভদান, মোহাম্মদ আলি হোসেইনালিপুর, বাচো মেবুরিশভিলি এবং গলমহাসান তাসেইরি ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে উপস্থিত।
প্রযোজনা কাজটি হামবুর্গের প্যাকফিল্মের ফারজাদ প্যাকের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে এবং চেক প্রজাতন্ত্রের ইউরোপ মিডিয়া নেস্ট, লুক্সেমবার্গের আমুর ফু এবং জার্মানির NDR, ARD ডেগেটো ফিল্ম, BR ও SWR সহ বিভিন্ন ইউরোপীয় টেলিভিশন সংস্থার সমন্বয়ে কো‑প্রোডাকশন হিসেবে গড়ে উঠেছে।
বিশ্ববিক্রয় দায়িত্বে রয়েছে টোটেম ফিল্মস, যা আন্তর্জাতিক বাজারে ছবির প্রচার ও বিতরণ নিশ্চিত করবে। তদুপরি, হ্যামবুর্গ‑শ্লেসভিগ-হোলস্টাইন MOIN ফিল্মফোরডারুং, মিডিয়াবোর্ড বার্লিন‑ব্র্যান্ডেনবুর্গ এবং লুক্সেমবার্গ ফিল্ম ফান্ডের আর্থিক সহায়তা ছবির উৎপাদনকে সম্ভব করেছে।
‘রোয়া’ শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র নয়; এটি ইরানের রাজনৈতিক দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি শিল্পমূলক প্রতিবেদন। বার্লিনের বড় স্ক্রিনে এই কাজের প্রদর্শনী ইরানি অভিবাসী ও মানবাধিকার কর্মীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে এবং আন্তর্জাতিক দর্শকদের ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর ধারণা প্রদান করবে।
উৎসবের শেষের দিকে ‘রোয়া’কে ঘিরে আলোচনার সেশনও পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে চলচ্চিত্রের থিম ও নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্লেষণ করা হবে। দর্শকদের জন্য এটি একটি অনন্য সুযোগ, যেখানে তারা একদিকে শিল্পের সৌন্দর্য উপভোগ করবে, অন্যদিকে ইরানের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াবে।



