26 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিকেরানীগঞ্জে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ভোটদান, জামায়াত-এ-ইসলামীর প্রার্থীকে অভিযোগ

কেরানীগঞ্জে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ভোটদান, জামায়াত-এ-ইসলামীর প্রার্থীকে অভিযোগ

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আরাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে বুধবার সকাল আটটায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা‑৩ (কেরানীগঞ্জ একাংশ) আসনের প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ভোট ব্যবহার করেন। তিনি ভোটদান শেষে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটারদের পুনরায় ভোটের সুযোগ পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন এবং সকল ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের অধিকার ব্যবহার করতে আহ্বান জানান।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে এবং বহু পরিবারে কষ্টের পরিণতি ঘটেছে; তিনি উল্লেখ করেন, “অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে, সন্তানের রক্ত ঝরে গেছে”।

এরপর তিনি কেরানীগঞ্জে গতকাল রাত জুড়ে অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান। রাত ১০টা, ১২টা ও ১টায় জামায়াত-এ-ইসলামীর প্রার্থীর সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করে, যা তিনি দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এ পর্যন্ত জিনজিরা পি এম পাইলট হাইস্কুল কেন্দ্র থেকে তাদের বের করতে পারেনি” এবং এই দুর্বলতার কারণ তদন্তের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

সকাল সাড়ে সাতটায় আরাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে নারী ও পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বিশেষ করে নারীর উপস্থিতি চোখে পড়ে, যা ভোটগ্রহণে লিঙ্গ সমতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

সেই সময়ে মুসলিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটকেন্দ্রে জামায়াত-এ-ইসলামীর প্রার্থী, অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম, ভোট ব্যবহার করেন। গয়েশ্বরের অভিযোগের পর শাহীনুর ইসলাম প্রথম আলোকে মন্তব্য করেন, তিনি গয়েশ্বরের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে হাসি পেয়েছেন।

শাহীনুর ইসলাম বলেন, “সকালে কিছু সমস্যা ছিল, এখন সব স্বাভাবিক। প্রশাসন সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে” এবং সকল ভোটারকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে আহ্বান জানান।

কেরানীগঞ্জের জিনজিরা, শুভাঢ্যা, আগানগর, কোন্ডা ও তেঘরিয়া ইউনিয়নসহ মোট ৩,৫৯,৬১৮ ভোটার এই আসনে রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৮২,৮৪৩, নারী ভোটার ১,৭৬,৭৭১ এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১২৬টি।

এই আসনে বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ধানের শীষ), জামায়াত-এ-ইসলামীর অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), গণফোরামের রওশন ইয়াজদানি (উদীয়মান সূর্য), গণসংহতি আন্দোলনের মো. বাচ্চু ভূঁইয়া (মাথাল) এবং ইসলামী আন্দোলনের অন্যান্য প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গয়েশ্বরের অভিযোগের পটভূমিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ভোটকেন্দ্রের প্রবেশাধিকার নিয়ে উদ্বেগ দেখা যায়। তিনি উল্লেখিত সময়ে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে উপস্থিতি এবং জিনজিরা কর্তৃক হস্তক্ষেপের অক্ষমতা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

অন্যদিকে, জামায়াত-এ-ইসলামীর প্রার্থী শাহীনুরের মন্তব্যে দেখা যায়, তিনি ভোটগ্রহণের স্বাভাবিকতা ও প্রশাসনের প্রস্তুতিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং গয়েশ্বরের অভিযোগকে অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এই দুই দলের নেতার পারস্পরিক মন্তব্য ভোটের পরবর্তী পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে কেরানীগঞ্জের মতো সংবেদনশীল এলাকায়। ভোটের ফলাফল এবং অভিযোগের সমাধান ভবিষ্যতে নির্বাচনী রিফর্ম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার দিকে দৃষ্টিপাত করতে পারে।

স্থানীয় পর্যায়ে ভোটগ্রহণের উচ্চ অংশগ্রহণ এবং নারী ভোটারদের সক্রিয় উপস্থিতি ভোটের বৈধতা ও অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে অভিযোগের সমাধান না হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে, যা পরবর্তী নির্বাচনে পার্টিগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করবে।

সামগ্রিকভাবে, কেরানীগঞ্জে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ভোটদান এবং জামায়াত-এ-ইসলামীর প্রার্থীর ওপর অভিযোগের ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ এবং ভোটারদের অংশগ্রহণের নতুন দিক উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে, তা দেশের সামগ্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে নির্ধারণ করবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments