কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের আতাকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। নির্বাচনের সময় ভোট গ্রহণে দীর্ঘ লাইন ছিল এবং মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৯০৬। বিস্ফোরণের ফলে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়ে তারা দিগবিধিক পালিয়ে যায়।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ চালু ছিল এবং দুপুর পর্যন্ত প্রায় ১,২৫০ ভোট গৃহীত হয়েছে। কেন্দ্রের আশেপাশে ভোটারদের দীর্ঘ অপেক্ষা চলছিল এবং ভোটের প্রবাহ স্বাভাবিকভাবে চলছিল।
বিস্ফোরণের সময় অন্তত সাতটি ককটেল ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে উপস্থিতদের তথ্য। বিস্ফোরণ ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ভোটাররা দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং কিছু লোক কেন্দ্রের ভিতরে নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
বিপদে ৩০০ মিটার দূরে অবস্থানরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তারা তৎক্ষণাৎ এলাকায় নিরাপত্তা বাড়িয়ে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে উপস্থিতি নিশ্চিত করে।
বিস্ফোরণের ফলে ভোট গ্রহণের স্বাভাবিক প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটলেও, নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপের পর ভোট প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয় এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ চালু থাকে।
বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক সাইফুর রহমানের মতে, জামায়াত-শিবিরের কিছু লোক ককটেল ফাটিয়ে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, জগন্নাথদীঘি ও পার্শ্ববর্তী আলকরা, গুণবতী ইউনিয়নের কেন্দ্রগুলোতে সমর্থকরা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিল।
অন্যদিকে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থীর নির্বাচনী সমন্বয়ক তৌহিদুর আজমের বক্তব্যে বলা হয়েছে, তাদের কোনো সদস্য ককটেল বিস্ফোরণে জড়িত নয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ককটেল বা আতশবাজি ফোটানো হয়েছে এমন দিক থেকে ভোটারদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে হবে।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ভোট গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে কাজ করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দল মোতায়েনের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগে কোনো অতিরিক্ত বিঘ্ন না ঘটাতে সকল পক্ষকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে।



