বেরলিনের ইউরোপীয় চলচ্চিত্র বাজারে র্যাচেল রোজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য পরিচালনায় নির্মিত ‘দ্য লাস্ট ডে’ চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক বিক্রয় কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। লন্ডন ভিত্তিক ওয়েস্টএন্ড ফিল্মস এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিক্রয় দল গঠন করেছে এবং একই সময়ে ছবির প্রথম দৃশ্যের এক ঝলক প্রকাশ করেছে। ছবিতে অ্যালিসিয়া ভিক্যান্ডার, ওয়াগনার মোরা এবং ভিক্টোরিয়া পেড্রেট্টি প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করছেন।
ইউরোপীয় চলচ্চিত্র বাজারের উদ্বোধনী দিনে ওয়েস্টএন্ড ফিল্মস প্রথমবারের মতো ছবির পোস্টার ও এক দৃশ্যের ফটো প্রকাশ করে দর্শকদের নজর কেড়েছে। একই সঙ্গে উত্তর আমেরিকান বাজারের অধিকার পরিচালনা করতে সিএএ মিডিয়া ফাইন্যান্স ও ইউটিএ ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম গ্রুপ যৌথভাবে প্রতিনিধিত্ব করবে বলে জানানো হয়েছে। বিক্রয় কার্যক্রমের সূচনা সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিতরণকারীদের আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছে।
‘দ্য লাস্ট ডে’ ভর্জিনিয়া উলফের উপন্যাস ‘মিসেস ড্যালোয়ে’ থেকে প্রেরণা নিয়ে তৈরি, তবে গল্পটি সম্পূর্ণভাবে নিউ ইয়র্কের এক গ্রীষ্মের দিনে সীমাবদ্ধ। একদিনের মধ্যে দুইজন মা-সন্তান জোড়ার মুখোমুখি হওয়া এবং তাদের ব্যক্তিগত সংগ্রামের মুহূর্তগুলোকে কেন্দ্র করে গল্পটি গড়ে উঠেছে। এই সংক্ষিপ্ত সময়সীমা ছবির নাটকীয় গতি ও আবেগকে তীব্র করে তুলবে।
অ্যালিসিয়া ভিক্যান্ডার জুলিয়া নামের এক লেখকের চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি সৃজনশীল অচলাবস্থায় আটকে আছেন এবং নিজের অতীতের শোকের সঙ্গে সংগ্রাম করছেন। তার কন্যা কিশোরী বয়সে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে জুলিয়ার জীবনে নতুন চ্যালেঞ্জের দরজা খুলে যায়। এই পরিবর্তন তার অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যকে নাড়িয়ে দেয় এবং তাকে নিজের জীবনের পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করে।
ভিক্টোরিয়া পেড্রেট্টি টেইলর নামের একজন শ্রম ও ডেলিভারি নার্সের ভূমিকায় উপস্থিত। টেইলর গর্ভধারণের পরবর্তী সংকটের মুখোমুখি, যা তার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। জুলিয়ার সঙ্গে হঠাৎ সাক্ষাৎ তার স্থিতিশীলতা নষ্ট করে এবং দুজনের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার নতুন পথ খুলে দেয়।
ওয়াগনার মোরা জুলিয়ার স্বামী হিসেবে অভিনয় করছেন, যিনি পরিবারের মধ্যে ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করছেন। তার চরিত্রটি দৃঢ় হলেও তার নিজের অজানা সমস্যাগুলো পরিবারে গোপন ফাটলকে বাড়িয়ে তুলছে। এই পারস্পরিক টানাপোড়েন ছবির মূল সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।
র্যাচেল রোজ, যিনি মূলত ভিজ্যুয়াল আর্টের জগতে পরিচিত, তার কাজ লস এঞ্জেলেসের সিএলএমএ, টেট মডার্ন এবং হুইটনি মিউজিয়াম অফ আমেরিকান আর্টসহ বহু আন্তর্জাতিক জাদুঘরে প্রদর্শিত হয়েছে। ভেনিস বিয়েনালে এবং কার্নেগি ইন্টারন্যাশনালে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি ফ্রিজ আর্টিস্ট অ্যাওয়ার্ডের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলা দৃশ্যমান ভাষা এখন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নতুন রূপে প্রকাশ পাবে।
রোজের মতে, মা হওয়া একটি নতুন সূচনা এবং সম্ভাব্য হুমকির মধ্যে সংঘর্ষের মতো, যা তাকে অস্তিত্বগত দ্বন্দ্বের গভীরে নিয়ে যায়। এই অনুভূতিকে তিনি ছবির মূল থিম হিসেবে তুলে ধরতে চান, যাতে দর্শকরা মাতৃত্বের জটিলতা ও অনিশ্চয়তাকে অনুভব করতে পারেন।
বর্তমানে ছবিটি পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে রয়েছে এবং শুটিং শেষ হওয়ার পর থেকে সম্পাদনা, রঙ সংশোধন ও সাউন্ড মিক্সিং কাজ চলছে। ওয়েস্টএন্ড ফিল্মসের মতে, আন্তর্জাতিক বিক্রয় চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছবির বিশ্বব্যাপী মুক্তির পরিকল্পনা গঠন করা হবে।
‘দ্য লাস্ট ডে’ চলচ্চিত্রটি শিল্প ও সিনেমার সংযোগস্থলে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায় এবং মাতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও পারিবারিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম দিকগুলোকে একক গ্রীষ্মের দিনে সংযুক্ত করে উপস্থাপন করবে। শিল্পপ্রেমী ও চলচ্চিত্রপ্রেমী উভয়ের কাছেই এই প্রকল্পটি বড় প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে, এবং ভবিষ্যতে এর সাফল্য কীভাবে গড়ে উঠবে তা নিয়ে আলোচনা চলবে।



