26 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনির্বাচনী ছুটিতে সেনা ও পুলিশ কর্মী দায়িত্বে, শহর শূন্য

নির্বাচনী ছুটিতে সেনা ও পুলিশ কর্মী দায়িত্বে, শহর শূন্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন, ১২ ফেব্রুয়ারি, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভোট গননা চলমান। একই সময়ে সরকারী ছুটির ঘোষণা সত্ত্বেও, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ সহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করতে শহরের রাস্তায় সক্রিয়। ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য তারা রাতভোরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

একজন সেনা সদস্য জানান, “ভোর ৪টা ২০ মিনিটে ক্যাম্পের সবাই ঘুম থেকে উঠেছি। তারপর নিজেদের প্রস্তুতি শেষে ডিউটি শুরু করেছি। এই ডিউটি কখন শেষ হবে, তা আমরা জানি না। ভোট গণনা শেষ পর্যন্ত আমাদের মাঠে থাকতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের ছুটি বলে কিছু নেই; এ রকম দিনে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। আমার মতো হাজারো সেনা সদস্য তা-ই করছেন।”

সেনা সদস্যের মতে, ছুটির দিনেও দায়িত্বের গুরুত্ব বেশি এবং তা থেকে প্রাপ্ত সন্তুষ্টি বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, “ছুটির দিনের আনন্দের চেয়ে আমাদের কাছে দায়িত্ব বড়। দায়িত্ব পালনেই সবচে বড় আনন্দ।”

দেশব্যাপী চার দিনের ছুটির মধ্যে, ভোটাধিকার ব্যবহার করতে এবং ভোটের নাড়ি দেখতে অসংখ্য মানুষ রাজধানী ছেড়েছে। তবে, শহরের বেশিরভাগ এলাকা শূন্য দেখা যায়; রাস্তায় গাড়ি কম, ট্রাফিক জ্যাম নেই এবং হর্নের শব্দ শোনা যায় না। দোকান, বাজারঘাট বন্ধ, এবং মাত্র অল্পসংখ্যক রিকশা, সিএনজি ও প্রাইভেট কার চলাচল করে।

মোড়ে মোড়ে কিছু চা-দোকান এবং হাসপাতাল, সংবাদমাধ্যম ও জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই খোলা থাকে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়, যা ভোটের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল উপাদান।

বিভিন্ন পেশার মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জরুরি সেবার জন্য ছুটি কাটাতে বাড়ি না গিয়ে অনেকেই কাজেই লেগে আছেন। কিছুজন পকেটের টানাপোড়েনে টেনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, অন্যরা পরিবার ও ছুটির বিষয়কে পেছনে রেখে দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

কারওয়ান বাজারের সার্ক ফুয়ারা মোড়ে বাংলাদেশ পুলিশের কয়েকজন সদস্য দায়িত্বে ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, ট্রাফিক পুলিশ হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “আমরা জনগণের সেবক। পরিবার, ছুটি বা অন্যান্য যে কোনো বিষয়ের আগে জনগণের সুবিধা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।”

নুরুল ইসলাম আরও ব্যাখ্যা করেন, “যদি আমরা আজ ছুটিতে চলে যাই, তাহলে রাস্তার ট্রাফিক দেখবে কে? মানুষের নিরাপত্তা দেখবে কে? লোকজন ভোট দিতে যাচ্ছেন, রাস্তায় গাড়ি আছে, ভিআইপি মুভমেন্টও আছে। আমরা রাস্তায় থেকে এসব দায়িত্ব পালন করছি।”

গোপালগঞ্জের গোপালগঞ্জে, ঢাকা সিকিউরিটি গার্ডে কর্মরত একজন নিরাপত্তা কর্মীকে একটি এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। তিনি জানান, “বাড়িতে যেতে চেয়েছিলাম। আবেদন করলে ছুটি পেতাম, কিন্তু সবাই যদি ছুটি নিয়ে চলে যায়, তাহলে সেবা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমি এখানে দায়িত্বে আছি।”

এইসব দায়িত্বশীল কর্মী ও সেবাকর্মীর উপস্থিতি ভোটের দিন নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর পূর্ণ উপস্থিতি ভোটারদের অংশগ্রহণে আত্মবিশ্বাস জোগাবে এবং ফলাফলকে বৈধতা দেবে। ভবিষ্যতে, এমন দায়িত্বশীলতা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনমতের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন নাগরিকরা দেখবে যে সরকারী ছুটির দিনেও জনসেবা অবিচল রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, নির্বাচনের ছুটিতে সেনা, পুলিশ ও অন্যান্য জরুরি সেবাকর্মীর অবিচল দায়িত্ব পালন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মসৃণ চলাচল নিশ্চিত করেছে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রেখেছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments