সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বন্দরবাজার ও লামাবাজার এলাকায় আজ সকাল ৯:৩০ টার পর ভোটদান শুরু হওয়া কয়েকটি কেন্দ্রেই ভোটার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম দেখা গিয়েছে। কেন্দ্রের কর্মীরা জানান, সিলেটের মানুষজন সাধারণত দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন, তাই ভোটার প্রবাহ ধীরগতিতে চলছে।
মদনমোহন কলেজ সেন্টারের পুরুষ ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. আমির হোসাইন খান জানান, এই কেন্দ্রে মোট ২,৯৩৩ ভোটার নিবন্ধিত, যার মধ্যে সকাল ১০টা পর্যন্ত মাত্র ২৯০টি ভোট গৃহীত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পাঁচটি বুথে ভোটদান চালু থাকা সত্ত্বেও ভোটার সংখ্যা কম।
একই সেন্টারের মহিলা ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কে এম জুবায়ের আরফিন জানান, এখানে মোট ২,৭৭৯ ভোটার নিবন্ধিত, এবং সকাল ১০টা পর্যন্ত মাত্র ২০০টি ভোট গৃহীত হয়েছে, যা মোট ভোটের ৭.২০ শতাংশের সমান। তিনি উল্লেখ করেন, মহিলা ভোটাররা সাধারণত দেরিতে আসেন, তাই ভোটদান গতি ধীর।
সিলেট নগরীর রসময় মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রেও একই ধরণের পরিস্থিতি দেখা গেছে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অমিত্র সুধন পালের মতে, এই কেন্দ্রে মোট ১,৬১৪ ভোটার রয়েছে এবং সকাল ১০:৩০ টা পর্যন্ত ১৩২টি ভোট গৃহীত হয়েছে।
বন্দরবাজারের সারদা হল ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাশিদ খান জানান, প্রথম এক ঘণ্টায় ২০২টি ভোট গৃহীত হয়েছে, যদিও কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ২,৮৬৮। তিনি যোগ করেন, ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশিতের চেয়ে কম।
কয়েকটি কেন্দ্রেই নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা বসে কাজ করছেন, তবে কিছু কেন্দ্রে দু-একজন ভোটারই লাইনে দাঁড়িয়ে দেখা গেছে। এই পরিস্থিতি ভোটের গতি ধীর করার পাশাপাশি, কেন্দ্রের কর্মীদের কাজের চাপও বাড়িয়ে তুলছে।
সিলেট-১ আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় কেন্দ্রের কর্মীরা ভোটের গতি বাড়াতে অতিরিক্ত প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত গৃহীত ভোটের সংখ্যা মোট ভোটার সংখ্যার তুলনায় অল্পই, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ভোটার উপস্থিতির এই ধীরগতি পার্টিগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে, বিশেষ করে যারা শহুরে ভোটারদের ওপর নির্ভরশীল। পরবর্তী সময়ে ভোটারকে উৎসাহিত করতে অতিরিক্ত প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের প্রয়োজন হতে পারে।



