১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবারের সকালবেলা নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ভোটগ্রহণের সময় ধানের শীষের সমর্থক কাজী আজিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ে আঘাত করা হয়। ৩৫ বছর বয়সী কাজী আজিম, ইসরাফিল কাজীর ছেলে, বয়রা গ্রামেই ঘটনার মুহূর্তে গুরুতর আঘাত পেয়ে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি শল্যচিকিৎসা ও রক্ত সঞ্চালন শুরু হয় এবং বর্তমানে তার অবস্থা পর্যবেক্ষণাধীন।
ভোটের দিন সকালে ধানের শীষের প্রার্থী ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সমর্থক কাজী আজিম ভোটারদের মধ্যে স্লিপ বিতরণ করে ভোটের আবেদন জানাচ্ছিলেন। একই সময়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলামের সমর্থক নাহিদ কাজীর সঙ্গে কথোপকথন শুরু হয়, যা দ্রুত তীব্র হয়ে ওঠে।
আলোচনা উত্তেজনায় পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাহিদ কাজীর কিছু সহায়ক কাজী আজিমের উপর শারীরিক হামলা চালায় এবং ধারালো ছুরি দিয়ে তার পা কেটে আঘাত করে। আঘাতের ফলে পা কাটা ও রক্তপাতের শিকার হয়ে কাজী আজিমকে তীব্র শারীরিক ক্ষতি হয়।
আহতকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে জরুরি সেবা প্রদান করে। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তিনি শল্যচিকিৎসা, রক্ত সঞ্চালন এবং ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা পাচ্ছেন।
ধানের শীষের প্রার্থী ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ঘটনাটিকে তার দলের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার প্রচেষ্টা বলে অভিযুক্ত করেন। তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণও আহ্বান করেন।
লোহাগড়া থানার ওয়্যারিং অফিসার আব্দুর রহমান ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি জানান, প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী জিজ্ঞাসাবাদ এবং আঘাতের সরঞ্জাম তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা একটি গুরুতর অপরাধ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার, শারীরিক ক্ষতি এবং নির্বাচনী হিংসা সংক্রান্ত আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা অনুযায়ী অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
তদন্ত চলাকালীন সময়ে পুলিশ অতিরিক্ত সাক্ষী ও ভিডিও রেকর্ড সংগ্রহ করছে। প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে অপরাধীর পরিচয় ও দায়িত্ব নির্ধারণের পর আদালতে মামলার দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এই ঘটনা নির্বাচনী সময়ে হিংসার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে এবং ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা দাবি করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে অতিরিক্ত সতর্কতা, পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



