দুপুরের আগে ২৯৯টি নির্বাচনী এলাকায় একসঙ্গে অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম‑২০২৬ে ভোটদান সকাল ৭:৩০ টা থেকে বিকেল ৪:৩০ টা পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই চলছে। ভোটদান শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পর্যবেক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিতি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য জানাচ্ছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস সিদ্দেস্বরী গার্লস কলেজে ভোটের উদ্বোধন দেখার পর দেশীয় গণতন্ত্রের জন্য আজকের দিনকে “বড় দিন” বলে উল্লেখ করেন। তার মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সেক্রেটারি আকতার আহমেদ জানিয়েছেন যে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ৩২,৭৮৯টি ভোটকেন্দ্র থেকে ৩২.৮৮ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি রেকর্ড হয়েছে।
কমিশন আরও জানিয়েছে যে বর্তমানে দেশের ৪২,৬৫১টি ভোটকেন্দ্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো কেন্দ্রে ভোটদান বন্ধ করা হয়নি। এই তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া মসৃণভাবে চলমান বলে ধারণা করা যায়।
জাতীয় সিটিজেন পার্টির (NCP) প্রধান সমন্বয়কারী নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি ঢাকা‑৮ নম্বর এলাকায় গিয়ে পার্টির “শাপলা কোলি” প্রতীককে সমর্থনকারী ভোটারদের সংখ্যা বাড়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি শাহজাহানপুরে মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রের আশেপাশে ১১:৩০ টার দিকে উপস্থিত হয়ে পার্টির সমর্থকদের উপর হুমকি আরোপের অভিযোগ তুলেছেন।
ঢাকা ডেপুটি কমিশনার অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-১, ঢাকা-২, ঢাকা-৩, ঢাকা-১৯ ও ঢাকা-২০ নির্বাচনী এলাকায় দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২৭ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। এই তথ্য অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার মাহাবব উল্লাহ মজুমদার উপস্থাপন করেছেন।
রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবন তিনটি হিল জেলা জুড়ে ভোটদান শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চলছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি পার্লামেন্টারি নির্বাচনী এলাকায় মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি, জামায়াত‑ই‑ইসলাম ও দুইজন স্বাধীন প্রার্থীর মধ্যে প্রত্যাশিত।
বান্দরবনে সকাল ৭:৩০ টা থেকে ভোটদান শুরু হয়েছে এবং এখানেও কোনো বিশৃঙ্খলা বা বিরোধের খবর পাওয়া যায়নি। যদিও ভোটের উপস্থিতি সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে বর্তমান পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে এগোচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটদান ধারাবাহিকভাবে চলমান এবং কোনো কেন্দ্রে ভোটদান বন্ধের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও পর্যবেক্ষকদের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আজকের দিনটি বাংলাদেশী গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভবিষ্যতে ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ও তার রাজনৈতিক প্রভাব নির্ধারণের জন্য আজকের উপস্থিতি ও ভোটদান প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত ভোটদান চলতে থাকবে এবং ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের নতুন দিক উন্মোচিত হবে।



