লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশকে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, সকাল ১০:৩০ টায় রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় অবস্থিত স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর এই মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা ভোটদান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানিয়ে বলেন, আজকের দিনটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি আশা করেন নাগরিকরা একটি আনন্দময় ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রত্যক্ষ করবেন। তিনি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত কোনো ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রশাসনের নজরে আসেনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বয়ে গঠিত নিরাপত্তা বলয় দেশের প্রতিটি জেলায়, বিশেষ করে রাজধানীতে, কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে। উপদেষ্টা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন, ফলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়নি।
ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং ভোটকেন্দ্রের পবিত্রতা রক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না, এ কথায় তিনি দৃঢ়তা প্রকাশ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল ইলেকশন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
ভোটারদের দীর্ঘ সারি এবং উৎসবমুখর উপস্থিতি সরকারের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার ওপর জনসাধারণের আস্থা প্রকাশ করে। সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ অপেক্ষার তাল দেখা গিয়েছে, যা নির্বাচনের প্রতি উচ্চ আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও ভোটদান সম্পন্ন করেছেন, যা নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশকে আরও বেগবান করেছে। তাদের অংশগ্রহণের ফলে ভোটারদের মধ্যে উদ্দীপনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়েছে।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট রাখার নির্দেশ দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফলাফল ঘোষণার পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা না ঘটাতে সব স্তরে সতর্কতা বজায় রাখা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার ভোটারদের ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের নাগরিকরা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত অংশ নিতে সক্ষম হবেন।



