জার্মান লেখক‑নির্দেশক কিলিয়ান আরমান্ডো ফ্রিডরিখের প্রথম কল্পনাপ্রসূত দীর্ঘদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘I Understand Your Displeasure’ (মূল শিরোনাম : Ich verstehe Ihren Unmut) ১৩ ফেব্রুয়ারি বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্যানোরামা বিভাগে বিশ্বপ্রিমিয়ার দেখাবে। চলচ্চিত্রটি নিম্নমজুরি পরিষ্কার‑সেবা শিল্পের গোপন জগৎকে কেন্দ্র করে মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ও নৈতিক দ্বন্দ্বকে তুলে ধরতে চায়। এই কাজের মাধ্যমে পরিচালক শ্রমিকদের দৈনন্দিন সংগ্রামকে দূরদর্শী দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, সরাসরি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উপস্থাপন করতে চান।
ফ্রিডরিখের পূর্বে ২০২৩ সালের ডকুমেন্টারি ‘Nuclear Nomads’‑এর সহ‑নির্দেশক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তবে ‘I Understand Your Displeasure’ তার প্রথম কল্পনাপ্রসূত ফিচার। স্ক্রিপ্টটি টুন্ডে সাউটিয়ার ও ড্যানিয়েল কুনজের সঙ্গে যৌথভাবে রচিত এবং লেইলা ফাতিমা কেইতা চলচ্চিত্রের সম্পাদনা পরিচালনা করেছেন। গল্পের কাঠামো ও সংলাপগুলো বাস্তবিক অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে তোলা, যাতে দর্শক পরিষ্কার‑সেবার কর্মক্ষেত্রের সূক্ষ্ম দিকগুলো অনুভব করতে পারেন।
চলচ্চিত্রটি জার্মান প্রযোজনা সংস্থা ‘WennDann Film’ এর তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়েছে এবং বিশ্ববিক্রয়ের দায়িত্ব Films Boutique গ্রহণ করেছে। উভয় সংস্থা আন্তর্জাতিক বাজারে জার্মান স্বতন্ত্র চলচ্চিত্রের প্রচারে সক্রিয়, তাই এই কাজের আন্তর্জাতিক বিতরণে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে। ট্রেলারটি ইতিমধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত, যেখানে চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল স্টাইল ও মূল থিমের ঝলক দেখা যায়।
কাস্টের বেশিরভাগই পেশাদার অভিনেতা নয়; প্রধান চরিত্রে জার্মান অভিনেত্রী সাবিনে থালাউ অভিনয় করেছেন, যিনি ৫৯ বছর বয়সী হেইকে চরিত্রে রূপান্তরিত হয়েছেন। থালাউ ছাড়াও নাদা কোস্টুরিন, ভার্নার পসেল্ট, সাদিবু ডিয়াবাং এবং নিগয়ার ভেলাজিকের মতো অ‑পেশাদার অভিনেতারা ছবিতে অংশগ্রহণ করেছেন। এই পদ্ধতি বাস্তবিক কর্মক্ষেত্রের পরিবেশকে আরও স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
হেইকে একটি পরিষ্কার‑সেবা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সেবা ব্যবস্থাপক, যিনি ক্লায়েন্ট, ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার‑কর্মীদের মধ্যে সমঝোতার সেতু গড়ে তোলেন। তার কাজের দায়িত্বের মধ্যে কর্মীদের শিফট সমন্বয়, গ্রাহকের চাহিদা পূরণ এবং কোম্পানির আর্থিক লক্ষ্য অর্জন অন্তর্ভুক্ত। চলচ্চিত্রে হেইকের এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেখানো হয়েছে, যেখানে তিনি একটি মূল সাব‑কন্ট্রাক্টরের কর্মীকে নিজের দলে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন।
সাব‑কন্ট্রাক্টর এই পদক্ষেপে বিরোধী হয়ে কোম্পানির সঙ্গে সহযোগিতা শেষ করার হুমকি দেয়, যদি না হেইকে তার কর্মীদের কাজের সময় ও আয় বাড়াতে পারেন। এই চাপে হেইকে নিজের একজন কর্মীকে বরখাস্ত করার সম্ভাবনা বিবেচনা করতে হয়, যা তার নৈতিক সীমা ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ সৃষ্টি করে। চলচ্চিত্রটি এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্রীয় থিম হিসেবে ব্যবহার করে, যেখানে শ্রমিকের জীবনের বাস্তবিক চ্যালেঞ্জগুলোকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
‘I Understand Your Displeasure’ পরিষ্কার‑সেবা শিল্পের গোপন দিকগুলোকে উন্মোচন করে, যেখানে কম মজুরির কাজের চাপ, কর্মস্থলের অনিশ্চয়তা এবং মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েন একসঙ্গে মিশে থাকে। পরিচালক এই কাজের মাধ্যমে দর্শকদেরকে কর্মীদের দৈনন্দিন সংগ্রামকে সরাসরি অনুভব করাতে চান, যাতে তারা দূরদর্শী দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বাস্তবিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে। চলচ্চিত্রের শৈলী ও বর্ণনায় ডার্ডেন বোনদের প্রাথমিক কাজের প্রভাব স্পষ্ট, যা মানবিকতা ও সামাজিক বাস্তবতাকে সূক্ষ্মভাবে মিশ্রিত করে।
ফ্রিডরিখ চলচ্চিত্রের সৃষ্টিকর্মে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক পর্যবেক্ষণকে একত্রিত করেছেন, এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে পরিষ্কার‑কর্মীদের জীবনের জটিলতা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তিনি ভবিষ্যতে একই ধরণের সামাজিক থিমের ওপর কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা দর্শকদেরকে সমাজের অদৃশ্য কোণগুলোতে দৃষ্টিপাত করতে উদ্বুদ্ধ করবে।
সাবিনে থালাউয়ের পারফরম্যান্সকে শিল্প সমালোচকরা ইতিমধ্যে প্রশংসা করছেন এবং তিনি ভবিষ্যতে আরও চলচ্চিত্রে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরিচালক ও প্রযোজকরা এই চলচ্চিত্রের সাফল্যকে ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে জার্মান স্বতন্ত্র চলচ্চিত্রের উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। ‘I Understand Your Displeasure’ এর বিশ্বপ্রিমিয়ার বার্লিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায়, জার্মান চলচ্চিত্র শিল্পের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক দায়িত্বের প্রতি মনোযোগের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হবে।



