মিরপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল ৭:৩০ টায় ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৭৫ বছর বয়সী মেজবাহ উদ্দিন ভোট দিতে উপস্থিত হন। তিনি তার স্কুলশিক্ষিক স্ত্রী জোহরা খাতুনের হাত ধরে, কালো চশমা পরে এবং লাঠি হাতে নিয়ে ভোটের জন্য পৌঁছেছেন। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে থাকা মেজবাহ উদ্দিনের জন্য এই ভোটদান তার শেষবারের মতো হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
মেজবাহ উদ্দিনের স্বাস্থ্যগত সমস্যার পরেও তিনি ভোটের গুরুত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তার বয়স ও দৃষ্টিহীনতার পরেও ভোটকেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হওয়ার দৃশ্যটি স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে গভীর সম্মান জাগিয়ে তুলেছে। তার স্ত্রী জোহরা খাতুন, যিনি নিজেও শিক্ষাক্ষেত্রে কর্মরত, স্বামীকে সমর্থন করে ভোটের জন্য গেছেন। দুজনের এই দৃশ্যটি ভোটদান প্রক্রিয়ার প্রতি নাগরিকদের দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করে।
ভোট গ্রহণের সময়সূচি অনুযায়ী ভোটদান সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু হয়। তবে ভোটাররা ভোরের তাড়াতাড়ি ভোটকেন্দ্রের দিকে রওনা হয়, ফলে ভোট গ্রহণের আগে থেকেই কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন গড়ে ওঠে। ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের সংখ্যা বেশী হওয়ায় নিরাপত্তা কর্মীরা তদবিরে কাজ করছেন এবং ভোটদান প্রক্রিয়া মসৃণভাবে চলতে নিশ্চিত করছেন।
মিরপুরের এই ভোটকেন্দ্রের সঠিক অবস্থান ও অন্যান্য কেন্দ্রের তথ্য জানার জন্য ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি গাইডলাইন অনুসরণ করা যেতে পারে। গাইডলাইনটি ভোটারদের জন্য কেন্দ্রের ঠিকানা, প্রবেশপথ এবং পার্কিং সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করে, যা ভোটারদের সময়মতো ভোটদানে সহায়তা করে।
এই নির্বাচনকে নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হয়েছে। সরকারী দলগুলো ভোটারদের উচ্চ অংশগ্রহণকে গণতন্ত্রের শক্তি হিসেবে তুলে ধরছে, আর বিরোধী দলগুলো বিশেষ করে বয়স্ক ভোটারদের অংশগ্রহণকে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির সূচক হিসেবে উল্লেখ করছে। মেজবাহ উদ্দিনের মতো বয়স্ক নাগরিকদের ভোটদানকে উভয় পক্ষই দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে গণ্য করছে।
ভবিষ্যতে এই ভোটদান প্রক্রিয়ার ফলাফল স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষ করে মিরপুরের মত নগর এলাকায় উচ্চ বয়সী ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ভোটের ফলাফল অনুযায়ী স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নীতি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
মেজবাহ উদ্দিনের ভোটদান দৃশ্যটি সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে, যেখানে নাগরিকরা তার দৃঢ়সংকল্পকে প্রশংসা করছেন। তার উপস্থিতি ভোটদান প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বাড়িয়ে তুলেছে এবং অন্য বয়স্ক ভোটারদেরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছে।
সার্বিকভাবে, মিরপুরের এই ভোটকেন্দ্রের সক্রিয়তা এবং দীর্ঘ ভোটার সারি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাস্থ্যের ইঙ্গিত দেয়। ভোটের দিনটি নাগরিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যেখানে প্রত্যেক ভোটার, বয়স নির্বিশেষে, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে নিজের ভূমিকা পালন করে। এই প্রেক্ষাপটে মেজবাহ উদ্দিনের মতো বয়স্ক নাগরিকের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব পায়, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়নে সহায়ক হবে।



