বৃহস্পতিবার সকাল বেলা, ঢাকা-১১ নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের উদ্দেশ্যে জাতীয় নাগরিক দল জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম একটি ঐতিহাসিক আহ্বান জানালেন। তিনি উল্লেখ করে বললেন, ১৬ বছর ধরে সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ না পেয়ে আজ দেশের মালিকানা বুঝে নেওয়ার দিন এসেছে।
নাহিদ ইসলাম বাড্ডার এ কে এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে গোপনীয় ও শান্ত পরিবেশে ভোট দিলেন। ভোটদান শেষে তিনি ভোটারদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ভোটাধিকার ব্যবহার করে গণতন্ত্রকে দৃঢ় করুন এবং একত্রে সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাস্তবায়ন করুন।
প্রার্থী তার ভাষণে জোর দিয়ে বললেন, “গণভোটে হ্যাঁ প্রদান করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে” এবং একাধিক দলীয় জোটের পক্ষে অবস্থান নিতে দেশের উন্নয়নের দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানালেন।
নাহিদ ইসলাম নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনী, প্রশাসন, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী এবং গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি সকল সংস্থাকে বললেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে থেকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করা উচিত।
একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট করে জানান, “সরকার গঠনের জন্যই আমরা জোটবদ্ধ নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন।
অন্য একটি প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বলেন, “যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, ফলাফল যাই হোক না কেন, তা মেনে চলা আমাদের দায়িত্ব।” তিনি ফলাফল গ্রহণের গুরুত্ব ও গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা রক্ষার কথা জোর দিয়ে বললেন।
নাহিদের এই মন্তব্যগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। তিনি ভোটারদেরকে স্মরণ করিয়ে দিলেন, ভোটদান শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অধিকার নয়, তা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জাতীয় নাগরিক দল জোটের প্রার্থী হিসেবে নাহিদের এই প্রচারণা, জোটের সমন্বিত কৌশলকে প্রতিফলিত করে। তিনি জোটের অন্যান্য দলের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে, একত্রে সরকার গঠনের লক্ষ্যে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
ভোটদান প্রক্রিয়ার সময় নাহিদ ইসলাম শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রশংসা করেন এবং সকল ভোটারকে আহ্বান জানান, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতিতে ভোট দিন। তিনি উল্লেখ করেন, “নীরব ও সুন্দর পরিবেশে ভোটদান করা আমাদের গণতন্ত্রের সঠিক প্রকাশ।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভোটের গুণগত মানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
নাহিদের বক্তব্যের পর, নির্বাচনী কমিশনের কর্মকর্তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান। তবে নাহিদের আহ্বান ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।
জাতীয় নাগরিক দল জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও নাহিদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে, ভোটারদেরকে সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে কাজ করছেন। তারা একত্রে ভোটারদেরকে আহ্বান জানিয়েছেন, “আপনার ভোটই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।”
এই নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন পরিবর্তন আনতে পারে। নাহিদ ইসলাম এবং তার জোটের নেতৃত্বে, ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের পথে অগ্রসর হলে, নীতি ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপে দ্রুত অগ্রগতি আশা করা যায়।
অবশেষে, নাহিদ ইসলাম ভোটারদেরকে স্মরণ করিয়ে দিলেন, “গণতন্ত্রের সঠিক কাজ হল ভোটের মাধ্যমে আপনার মতামত প্রকাশ করা এবং ফলাফলকে সম্মান করা।” তার এই আহ্বান দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।



