ইন্ডিয়ান সুপারস্টার যশের নতুন ছবি ‘টক্সিক’ এখন উত্তর ভারত এবং নেপাল অঞ্চলে থিয়েটার বিতরণ অধিকার এএ ফিল্মসের কাছে হস্তান্তর হয়েছে। এএ ফিল্মসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যানিল থাদানি এই চুক্তির মাধ্যমে ছবির প্যান-ইন্ডিয়া পরিকল্পনাকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নিয়েছেন।
এএ ফিল্মস ভারতীয় চলচ্চিত্র বিতরণ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও প্রভাবশালী অবস্থান বজায় রাখে। পূর্বে কেজিএফ: চ্যাপ্টার ১ ও কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২ ছবিগুলোর সফল বিতরণে এই সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমার মানদণ্ডকে নতুন করে গড়ে তুলেছিল। ‘টক্সিক’ এর ক্ষেত্রে এই ঐতিহাসিক সহযোগিতা আবারও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যশ ও অ্যানিল থাদানির সহযোগিতা প্রথম কেজিএফ প্রকল্পে শুরু হয়। সেই সময় দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠা বিশ্বাস ও সমন্বয় ‘টক্সিক’ এর বিতরণ নীতিতে পুনরায় প্রয়োগ করা হবে। দুজনের যৌথ ইতিহাসে দেখা যায়, কেজিএফের প্যান-ইন্ডিয়া কৌশলটি অঞ্চলভিত্তিক সীমা ভেঙে একসাথে বৃহৎ দর্শকগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করেছে।
‘টক্সিক’ ইতিমধ্যে মুক্তির পূর্বে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিতরণ চুক্তি সম্পন্ন করেছে। প্রথমে ছবিটি অ-তেলুগু ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে এপি-টিএজি বাজারে শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর ক্রিয়েশনসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করে। এই চুক্তি ছবির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপস্থিতিকে দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করেছে।
এরপর বিদেশি বাজারে ফার্স ফিল্মের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে ‘টক্সিক’ এর ভারতীয় ভাষার সংস্করণকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। ফার্স ফিল্মের অধিগ্রহণটি এখন পর্যন্ত ভারতীয় চলচ্চিত্রের জন্য সর্বোচ্চ বিদেশি চুক্তিগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃত। এই চুক্তি ছবির বৈশ্বিক আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এএ ফিল্মসের যুক্ত হওয়ার ফলে উত্তর ভারতীয় ও নেপালের থিয়েটার নেটওয়ার্কে ছবির উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। হিন্দি বেল্টের প্রধান শহরগুলোতে এবং নেপালের বড় বড় সিনেমা হলগুলোতে ‘টক্সিক’ এর শোইং শিডিউল দ্রুত গঠন করা হবে। ফলে ছবির মোট বক্স অফিস সম্ভাবনা পূর্বের চেয়ে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।
অ্যানিল থাদানি এএ ফিল্মসের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিতরণ শিল্পে তার দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য পরিচিত। তিনি বহু বড় বাজেটের ছবি সফলভাবে বাজারে নিয়ে গেছেন এবং তার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলকে একত্রিত করার ক্ষমতা রাখেন। ‘টক্সিক’ এর জন্য তার নেতৃত্বে গঠিত দলটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রচার ও বিতরণ কাজ সম্পন্ন করবে।
‘টক্সিক’ এর প্রি-রিলিজ পর্যায়ে ইতিমধ্যে দর্শক ও মিডিয়ার কাছ থেকে উচ্চ প্রত্যাশা গড়ে উঠেছে। ছবির থিম, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং যশের পারফরম্যান্সের কথা বলা হয়, যা চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এএ ফিল্মসের অংশগ্রহণ এই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার মূল চাবিকাঠি হবে।
বিতরণ চুক্তির আওতায় এএ ফিল্মস ছবির প্রচারমূলক কার্যক্রম, পোস্টার ও ডিজিটাল মার্কেটিং, এবং থিয়েটার বুকিংয়ের সমন্বয় করবে। বিশেষ করে উত্তর ভারতের বড় শহরগুলোতে প্রি-রিলিজ ইভেন্ট ও মিডিয়া কনফারেন্সের মাধ্যমে দর্শকের আগ্রহ বাড়ানো হবে। নেপালের বাজারে স্থানীয় ভাষায় সাবটাইটেল ও ডাবিং কাজের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই চুক্তি ‘টক্সিক’ এর প্যান-ইন্ডিয়া কৌশলকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে, যা পূর্বে কেজিএফের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। ছবির বক্স অফিস সংগ্রহে উত্তর ভারত ও নেপালের অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে হিন্দি ও নেপালি ভাষাভাষী দর্শকদের মধ্যে।
বিতরণ নেটওয়ার্কের বিস্তৃতির ফলে ‘টক্সিক’ এর রিলিজ তারিখের কাছাকাছি টিকিট বিক্রয় দ্রুত বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এএ ফিল্মসের অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে ছবির শোইং স্ক্রিন সংখ্যা বাড়বে এবং প্রথম সপ্তাহে উচ্চ গড় আয় নিশ্চিত হবে।
সামগ্রিকভাবে, এএ ফিল্মসের সঙ্গে এই নতুন অংশীদারিত্ব ‘টক্সিক’ এর প্যান-ইন্ডিয়া দৃষ্টিভঙ্গিকে এক নতুন স্তরে নিয়ে যাবে। অ্যানিল থাদানি ও যশের মধ্যে গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক সহযোগিতা আবারও চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্যকে ত্বরান্বিত করবে। ছবির রিলিজের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকরা এই সমন্বয়ের ফলাফল সরাসরি উপভোগ করতে পারবে।



