ঢাকা‑১৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ, ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ৯:৪০ টায় মোহাম্মদপুর সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজে কেন্দ্র পরিদর্শনের পর ভোটার তালিকায় অসামঞ্জস্যের অভিযোগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রিজাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে থাকা তালিকা এবং পোলিং এজেন্টদের কাছে থাকা তালিকায় পার্থক্য রয়েছে, যার ফলে অনেক ভোটারকে সনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনলাইন ডেটাবেস থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও কেন্দ্রের পোলিং অফিসারদের রেকর্ডের মধ্যে মিল না পাওয়া গরমিলের মূল কারণ। তিনি আরও যোগ করেন, পোলিং এজেন্টদের কাছে বিতরণ করা প্রিন্টেড তালিকাতেও একই ধরনের অমিল দেখা যাচ্ছে, যা ভোটারদের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।
প্রার্থী জানান, তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে সাতটি ভোটিং কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন এবং প্রায় সব জায়গায় তালিকায় অমিলের সাক্ষী হয়েছেন। একটি কেন্দ্রে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করে নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানা ব্যবহার করে ভোটারকে পুনরায় খুঁজে বের করতে সক্ষম হন, তবে অনেক ভোটার অপেক্ষা না করে ফিরে যান।
ববি হাজ্জাজের মতে, তালিকায় গরমিলের ফলে ভোটারদের ভোট দেওয়ার অধিকার হ্রাস পেতে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেন, যেখানে তালিকায় অমিল দেখা যাবে সেখানে প্রিজাইডিং অফিসারদের সময় নিয়ে ভোটারকে সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হোক।
প্রার্থী এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত রাতে কিছু কেন্দ্রে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। গৃহীত পদক্ষেপের পরেও তিনি এই ঘটনার দায়ী ব্যক্তিদের ওপর তদন্তের দাবি তোলেন।
ববি হাজ্জাজের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, তিনি ভোটারদের স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে চান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে সবকিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে ফলাফল গণতান্ত্রিকভাবে গ্রহণ করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।
এ পর্যন্ত কোনো কেন্দ্র দখল বা সহিংসতার ঘটনা রিপোর্ট করা হয়নি, তবে ভোটার ডেটাবেজের গরমিল নিয়ে প্রার্থী তার উদ্বেগ পুনরায় প্রকাশ করেছেন। তিনি আশ্বস্ত করেন, যদি ভোটারদের নাম সঠিকভাবে তালিকায় পাওয়া যায় এবং ভোটদান প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়, তবে ফলাফল স্বীকার করা হবে।
ববি হাজ্জাজের অভিযোগের পর নির্বাচন কমিশনের কোনো মন্তব্য বা সংশোধনী পদক্ষেপের তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে গরমিলের প্রভাব কমিয়ে ভোটারদের সহায়তা করা যায়।
প্রার্থীর দাবি অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় গরমিলের মূল কারণ হতে পারে ডেটা আপডেটের ধীরগতি বা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় রেকর্ডের সমন্বয়হীনতা। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের ত্রুটি ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
ববি হাজ্জাজের মন্তব্যের পর অন্যান্য রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় নেতারা এখনও কোনো মন্তব্য দেননি। তবে তিনি যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন, তা ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতার ওপর আলোকপাত করে।
এই অভিযোগের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে তালিকায় গরমিল সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশনা ও সময়সীমা নির্ধারণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়া, নিরাপত্তা বাহিনীর পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য গেরিলা প্রচেষ্টার ওপর তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা গেছে।
ববি হাজ্জাজের শেষ মন্তব্যে তিনি পুনরায় জোর দেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং পোলিং এজেন্টদের সহায়তায় প্রক্রিয়া সুষ্ঠু করা নির্বাচনের বৈধতা রক্ষার মূল চাবিকাঠি। তিনি সকল ভোটারকে আহ্বান জানান, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত ভোটদান নিশ্চিত করার জন্য একসাথে কাজ করতে।



