ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলের শাহবাজপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হাঁস প্রতীকের রুমিন ফারহানা ভোট দিয়েছেন। ভোটদান প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং কেন্দ্রের চারপাশে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
রুমিন ফারহানার সমর্থকরা ভোটের মুহূর্তে “হাঁস হাঁস” স্লোগান গাইতে থাকে, আর নারীবাহিনীর ভোটাররা তাদের নিজ ঘরের সামনে রাস্তার কিনারায় দাঁড়িয়ে হাত তুলে শুভেচ্ছা জানায়। এই দৃশ্য স্থানীয় ভোটারদের উচ্ছ্বাস ও প্রার্থীর প্রতি সমর্থনকে প্রকাশ করে।
ভোটদান শেষ হওয়ার পর রুমিন ফারহানা মিডিয়ার সামনে বলেন, তিনি পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং ডিসসহ আটটি ভোট কেন্দ্রের তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার দলের কর্মীরা সাম্প্রতিক সময়ে কিছু প্রশাসনিক হেনস্থার শিকার হচ্ছে।
তিনি জানান, গতরাতে দুইজন কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত কর্মীরা রাতে খেজুর গাছে সিল মারার পরিকল্পনা রোধে পাহারায় ছিলেন, তবে কোনো অভিযোগ না থাকলেও তারা আটক করা হয়। এই ঘটনা তার দলকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
এছাড়া, নোয়াগাঁও ইউনিয়নে আর দুইজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আশুগঞ্জে আটটি কেন্দ্রকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। রুমিন ফারহানা এসব তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানিয়ে দিয়েছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভোটের পর রুমিন ফারহানা শাহবাজপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এবং সরাইল সদর আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ করে স্থানীয় শিক্ষার অবস্থা ও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
প্রশাসনিক হেনস্থার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রুমিন ফারহানার দল এই ঘটনাকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার ওপর প্রশ্ন তুলতে ব্যবহার করতে পারে। ভবিষ্যতে যদি হেনস্থা চালু থাকে, তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণা ও ভোটারদের অংশগ্রহণে প্রভাব পড়তে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনের গতিপথে নতুন দিক যোগ করতে পারে।



