নাটোরের লালপুরে ভোট কেন্দ্রের রেজাল্ট শিটে মুদ্রণ ত্রুটির কারণে শিট জব্দ করা হয়েছে; শিটগুলো সিলগালা করে পুনরায় সঠিক ফরম সরবরাহ করা হয়েছে। এই ঘটনা বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালেই ঘটেছে, যখন লালপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে শিটগুলো তুলে নেওয়া হয়।
ভোট কেন্দ্রের রেজাল্ট শিটে স্থানীয় নামের পরিবর্তে ভুলভাবে “সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়” লেখা ছিল। এই মুদ্রণ ত্রুটি ভোট গণনার তথ্যের সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে এবং তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
উল্লেখিত শিটগুলোকে জব্দ করার পরে, জাতীয় নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির পরিচালক এবং রাজশাহীর যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ জাহিদ হাসান ত্রুটিপূর্ণ শিটগুলো সিলগালা করেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শিটের অবৈধ ব্যবহার রোধ করা এবং ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখা লক্ষ্য করা হয়েছে।
লালপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসের সূত্রে জানা যায়, শিটে স্থানীয় নামের বদলে ভুল তথ্যের কারণে ত্রুটি ঘটেছে। ত্রুটিটি দ্রুত সনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শিটগুলো জব্দ করে নিরাপদে সংরক্ষণ করেন এবং পরে বিচারিক কমিটি সিলগালা করে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জায়দা খাতুনের মতে, শিটে ভুল তথ্যের উপস্থিতি তৎক্ষণাৎ নজরে এলে তা জব্দ করা হয় এবং পরে সঠিক ফরম সরবরাহ করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, শিটের সঠিকতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ফলাফল প্রকাশ করা হবে না।
শিট জব্দের পর, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত নতুন, সঠিক রেজাল্ট শিট সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে। নতুন শিটগুলোতে সঠিক স্থানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ভোট গণনার প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করা হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে ভোটের ফলাফল প্রকাশে কিছুটা বিলম্বের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী ফলাফল চূড়ান্ত করার সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, যাতে সব ভোট কেন্দ্রের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা যায়।
নাটোর-১ আসনের নির্বাচন এখনো চলমান, এবং এই ধরনের ত্রুটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা প্রভাবিত করতে পারে। নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক দলগুলো এই বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী দাবি করতে পারে।
ভবিষ্যতে এমন ত্রুটি পুনরায় না ঘটার জন্য মুদ্রণ প্রক্রিয়ার কঠোর পর্যালোচনা এবং ত্রুটি সনাক্তকরণের ব্যবস্থা বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। নির্বাচনী কমিশন ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক সংস্থাগুলো এই ঘটনার পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতি পরিবর্তন করতে পারে, যাতে ভোটের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত হয়।



