ঢাকা-৮ আসনের ১১-দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) পল্টন এলাকার ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের পর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জোটের পক্ষ থেকে কোনো ভোট বর্জন বা বয়কটের পরিকল্পনা নেই।
পল্টন এলাকায় সকালবেলা ভোটকেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণ করার পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় উল্লেখ করেন, জোটের নেতৃত্বাধীন জামায়াত-এ-ইসলামি সহ অন্যান্য দশটি দল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছে এবং এখন পর্যন্ত পরিবেশ শান্ত থাকায় শেষ পর্যন্ত মাঠে উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, বহু বছর পর নাগরিকদের উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটদান করা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রগতির নতুন দিক উন্মোচন করবে। এ কারণে ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে আসার জন্য তিনি দৃঢ় আহ্বান জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উল্লেখ করেন, স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটদান করলে ব্যালটের মাধ্যমে একটি ‘নীরব ভোট বিপ্লব’ গড়ে উঠবে, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কারকে ত্বরান্বিত করবে। তবে তিনি নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা-৮ আসনে ‘লাঙ্গল’ ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীকধারী প্রার্থীরা মিলেমিশে কাজ করছেন।
তিনি দাবি করেন, ধানের শীষের পক্ষে ডামি প্রার্থী বসিয়ে জাতীয় পার্টি নির্বাচনী সমীকরণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া, মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টরা শাপলা কলি প্রতীকের এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দিয়েছেন, তবে পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তারা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জোর দিয়ে বলেন, কিছু বিচ্ছিন্ন বাধা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেন, ছোটখাটো অভিযোগগুলো দ্রুত সমাধান করা হলে ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে।
১১-দলীয় জোটের প্রার্থীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জয়ের আশায় দৃঢ় এবং তারা বিশ্বাস করেন, ৫ আগস্টের পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জনগণ সঠিক নেতৃত্বকে বেছে নেবে।
ঢাকা-৮ আসনের প্রতিটি কেন্দ্রে দীর্ঘ সারি গড়ে ওঠা ভোটারদের উপস্থিতি পরিবর্তনের ইচ্ছা ও জনগণের রায় প্রকাশের ইঙ্গিত দেয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও উল্লেখ করেন, জোটের সব দলই নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সকল প্রার্থী ও দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
এই ঘোষণার পর, জোটের অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকেও সমর্থনমূলক মন্তব্য শোনা যায়, যেখানে তারা ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান করার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সার্বিকভাবে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য ভোট বর্জনের কোনো ইচ্ছা না থাকাকে জোর দিয়ে তুলে ধরেছে এবং ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটদান করার জন্য পরিবেশের শান্তি বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।



