‘How to Get to Heaven from Belfast’ নেটফ্লিক্সে বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি স্ট্রিমিং শুরু করেছে। লিসা ম্যাকগি, ‘ডেরি গার্লস’ সিরিজের স্রষ্টা, এই আটটি পর্বের মিস্ট্রি‑কমেডি পরিচালনা করেছেন। শোটি ত্রিশের কোঠার তিনজন বন্ধুর অপ্রত্যাশিত ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
শোতে সিনেড কীনার, কাওইফিয়ন ডুনে, রোইসিন গ্যালাহার, এমেট জে. স্ক্যানলান, সাওয়ার্স‑মনিকা জ্যাকসন এবং বোনাগ গ্যালাহার প্রধান ভূমিকায় উপস্থিত। প্রতিটি অভিনেতা তাদের নিজস্ব স্বকীয় শৈলীতে চরিত্রে প্রাণ সঞ্চার করেছেন, যা সিরিজের হাস্যরস ও নাটকীয়তা উভয়ই সমৃদ্ধ করেছে।
‘How to Get to Heaven from Belfast’ কে মিস্ট্রি এবং কমেডি দুটোই বলা যায়। সিরিজের গঠন এমন যে, প্রথমে হালকা হাস্যরসের ছোঁয়া দিয়ে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে, পরে ধীরে ধীরে রহস্যের জটিলতা বাড়ায়। এই দ্বৈত ধাঁচের ফলে শোটি একই সঙ্গে বিনোদনমূলক এবং চিন্তাশীল হয়ে ওঠে।
প্রথম পর্বে তিনজন বন্ধুর জীবনে অপ্রত্যাশিত সংবাদ আসে, যা তাদের অবিশ্বাসের সীমানা ছাড়িয়ে যায়। গ্রীটা (নাটাশা ও’কিফ) সহ বাকি দুইজনের মুখে শক ও বিস্ময় প্রকাশ পায়, এবং তারা ঘটনাটির সত্য উদঘাটনের জন্য একসাথে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। এই সূচনা শোয়ের মূল রহস্যের ভিত্তি স্থাপন করে।
সিরিজের নামের মতোই, গল্পটি বেলফাস্টের পটভূমিতে গড়ে উঠেছে, যেখানে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ভাষা প্রাধান্য পায়। চরিত্রগুলোর উচ্চারণ ও কথোপকথনে আঞ্চলিক স্বাদ স্পষ্ট, যা দর্শকদেরকে স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সংযুক্ত করে। এই স্বকীয়তা শোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলাদা করে তুলেছে।
লিসা ম্যাকগি সিরিজের রচনায় ‘ডেরি গার্লস’ এর সাফল্যের কিছু উপাদান পুনরায় ব্যবহার করেছেন, তবে মিস্ট্রি উপাদান যোগ করে নতুন মাত্রা সৃষ্টি করেছেন। বন্ধুত্ব, আত্মপরিচয় এবং অতীতের ছায়া—এই থিমগুলোকে তিনি হাস্যরসের সঙ্গে মিশ্রিত করে উপস্থাপন করেছেন। ফলে শোটি শুধুমাত্র হালকা মেজাজের নয়, গভীর অর্থবহও বটে।
মিডিয়ার মন্তব্যে শোয়ের মাঝের অংশকে কিছুটা ধীরগতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে গল্পের জটিলতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাস্যরসের তীব্রতা কমে যায়। তবে শেষের দিকে গাঁথা সমাধান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাটকীয়তা ও হাস্যরসের সমন্বয় পুনরায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এই পরিবর্তন শোয়ের সামগ্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে।
শোয়ের রচনায় ব্যবহৃত সংলাপগুলো দ্রুতগতি ও তীক্ষ্ণতা ধারণ করে। চরিত্রগুলোর কথাবার্তায় স্থানীয় রসিকতা ও বুদ্ধিদীপ্ত মন্তব্যের মিশ্রণ রয়েছে, যা দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখে। সংলাপের এই বৈশিষ্ট্য শোকে সাধারণ কমেডি থেকে আলাদা করে।
‘How to Get to Heaven from Belfast’ এর প্রযোজনা দল উল্লেখযোগ্যভাবে স্থানীয় ট্যালেন্টকে সমর্থন করেছে। শুটিংয়ের বেশিরভাগ অংশ বেলফাস্টের বিভিন্ন স্থানে করা হয়েছে, যা শহরের প্রকৃত রঙ ও পরিবেশকে স্ক্রিনে তুলে ধরেছে। এই পদ্ধতি স্থানীয় শিল্পীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
শোয়ের প্রকাশের পর নেটফ্লিক্সের স্ট্রিমিং ডেটা দেখায় যে, প্রথম সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য দর্শকসংখ্যা অর্জিত হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে শোটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, যেখানে দর্শকরা সিরিজের মিশ্র ধাঁচকে প্রশংসা করেছে।
বিনোদন বিশ্লেষকরা শোয়ের সাফল্যকে তার অনন্য মিশ্রণ ও শক্তিশালী চরিত্রবিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। যদিও কিছু সমালোচক মাঝের অংশের ধীরগতি নিয়ে মন্তব্য করেন, তবে শেষের সমাধান ও হাস্যরসের সমন্বয়কে তারা ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেন।
সারসংক্ষেপে, ‘How to Get to Heaven from Belfast’ নেটফ্লিক্সে নতুন মিস্ট্রি‑কমেডি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যেখানে লিসা ম্যাকগি তার পূর্বের কাজের সাফল্যকে নতুন গল্পের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। আটটি পর্বের এই সিরিজটি বন্ধুত্ব, রহস্য এবং হাস্যরসের মিশ্রণকে সমন্বিতভাবে উপস্থাপন করে, যা দর্শকদেরকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আকৃষ্ট রাখে। শোটি বর্তমানে নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিংয়ের জন্য উপলব্ধ এবং আগামী সপ্তাহে আরও দর্শকের আগমন প্রত্যাশিত।



