ঢাকার ৮ নম্বর আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ৩ ফেব্রুয়ারি সকালবেলা ঢাকা‑মোরে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি জানিয়ে বলেন, তিনি সংসদে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হয়ে পুরো দেশে মাদকদ্রব্য নির্মূল করতে চান।
প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা‑৮ এলাকায় মাদক সিন্দিকেটের কার্যক্রম ও ‘মাদক সম্রাট’ নামে পরিচিত ব্যক্তির উপস্থিতি রয়েছে, যাকে তিনি আইনগতভাবে কঠোরভাবে মোকাবেলা করার আহ্বান জানান। তিনি কর্মীদেরকে সতর্ক করেন, মাদক ও অস্ত্র হাতে নিলে তা নিজের ওপর আঘাতের কারণ হতে পারে।
পাটওয়ারী বলেন, নির্বাচনের সময় কিছু লোক মাদক ও অস্ত্র সরবরাহ করে, এবং ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া ভোটে মাদক‑অস্ত্র বিরোধী প্রার্থীদের সমর্থন প্রত্যাশা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সংখ্যা বাড়ছে এবং আর সহ্য করা যাবে না।
বক্তব্যের মধ্যে তিনি হুমকির মুখে আছেন বলে উল্লেখ করে, “আমাদের নাকি মাইর দেওয়া হবে” এমন শব্দ ব্যবহার করেন এবং “শক্ত হাতে প্রতিহত করবো” বলে দৃঢ়সঙ্কল্প প্রকাশ করেন। এই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে পিঠা উৎসবের পর ডিম নিক্ষেপের ঘটনার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “হাবিবুল্লাহ বাহারে মাইর খেয়ে আসছি, এবার মাইর দিবো।”
পাটওয়ারী এই মন্তব্যের মাধ্যমে তার সমর্থকদের কাছে দৃঢ় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, মাদক ও অস্ত্রের সরবরাহকারী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কঠোরভাবে গ্রেফতার করে জেলে আটকাতে হবে।
এই সময়ে তিনি ভোটারদেরকে অনুরোধ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটে মাদক‑অস্ত্র বিরোধী প্রার্থীদের সমর্থনে ভোট দিতে, যাতে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হয়। তিনি বলেন, “আপনারা যদি মাদক‑অস্ত্রের বিরুদ্ধে ভোট দেন, তবে আমরা সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে আর সহ্য করব না।”
প্রচারকর্মে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর কাছ থেকে পাটওয়ারীর বক্তব্যের প্রতি কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন বিভিন্ন দল সাধারণত নিরাপত্তা ও মাদক সমস্যার সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই বক্তব্যের পর, নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেন, প্রার্থী তার নিজস্ব ভোটার ভিত্তি গড়ে তুলতে কঠোর নিরাপত্তা নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজের প্রতিশ্রুতি ব্যবহার করছেন। তিনি এই নীতি দিয়ে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, ঢাকা‑৮ আসনের প্রার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক ও নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। পাটওয়ারীর মাদক‑অস্ত্র নীতি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে আগ্রহের কথা এই নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
প্রতিবাদী দলগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, মাদক ও সন্ত্রাসী সমস্যার সমাধানে একক প্রার্থীর কঠোর রূপান্তর যথেষ্ট নাও হতে পারে এবং সমন্বিত নীতি প্রয়োজন। তবে পাটওয়ারীর বক্তব্যে তিনি এই বিষয়গুলোকে তার রাজনৈতিক মঞ্চে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন।
আসন্ন ভোটের ফলাফল কীভাবে দেশের নিরাপত্তা নীতি ও মাদকমুক্তিকরণে প্রভাব ফেলবে, তা এখনও অনিশ্চিত। তবে পাটওয়ারীর দৃঢ় প্রতিশ্রুতি এবং তার সমর্থকদের প্রত্যাশা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করবে।
এই প্রচারণা শেষে, পাটওয়ারী আবারও ভোটারদেরকে অনুরোধ করেন, “দোয়া করুন যাতে আমি সংসদে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারি এবং পুরো বাংলাদেশে মাদক উচ্ছেদ করতে পারি।” তার এই শেষ মন্তব্য নির্বাচনী প্রচারণার সমাপ্তি চিহ্নিত করে এবং ভোটারদের কাছে শেষ বার্তা পৌঁছে দেয়।



