দনিয়া অগ্রদূত বিদ্যা নিকেতন হাই স্কুলের ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে ৫৩ বছর বয়সী আবু সাঈদ সরকার হঠাৎ অচেতন হয়ে মারা যান। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল প্রায় সাড়ে আটটায় ঘটেছে। ভোটারটি তার গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন, তবে হৃদরোগের পূর্ব ইতিহাসের কারণে তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটায়।
দনিয়া এলাকার দনিয়া অগ্রদূত বিদ্যা নিকেতন হাই স্কুলের চতুর্থ তলায় অবস্থিত ভোটিং বুথে ভোটারটি পৌঁছাতে গিয়ে সিঁড়ি বেয়ে তৃতীয় তলায় হঠাৎ বমি বমি বোধ করেন। তার স্ত্রী তাকে সমর্থন করে চতুর্থ তলায় পৌঁছাতে সাহায্য করেন, তবে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা বাড়তে থাকে এবং তিনি অচেতন অবস্থায় পড়ে যান।
আবু সাঈদ সরকার মূলত মুগদা মানিকনগর এলাকায় বাস করতেন, তবে পূর্বে কাজলা এলাকায় থাকায় সেখানেই তার ভোটার তালিকায় নাম ছিল। পরিবার জানায়, তিনি দীর্ঘদিন হৃদরোগে ভুগছিলেন এবং পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শে শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলতে হতো। তবুও তিনি ভোটের জন্য সকালেই বাড়ি ছেড়ে গেছেন।
অচেতন অবস্থায় তাকে দ্রুত স্থানীয় জরুরি সেবা কর্মীরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর, চিকিৎসকবৃন্দ জরুরি সেবা প্রদান করেন, তবে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল না থাকায় সকাল দশটার কাছাকাছি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
স্থানীয় পুলিশ দফতরের ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক শত্রূপা কুন্ড ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোটকেন্দ্রে গমনকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। পরিবারও জানিয়েছে যে, মৃত ব্যক্তি পূর্বে হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন, যা তার দ্রুত মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
হাসপাতাল ও থানা কর্তৃপক্ষ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মৃতদেহকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মৃতের পরিবার এখন শোকের মধ্যে রয়েছে এবং তিনি যে ভোটের জন্য গিয়েছিলেন তা পূরণ হয়নি।
ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত অন্যান্য ভোটার ও কর্মচারীরা এই দুঃখজনক ঘটনার খবর পেয়ে শোক প্রকাশ করেছেন। কিছু ভোটার জানান, তারা ভোটের গুরুত্বকে স্বীকার করে আবারও নিরাপদে ভোটদান করার আহ্বান জানিয়েছেন।
হৃদরোগের রোগীরা শারীরিক পরিশ্রম বা তীব্র মানসিক চাপের সময় সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়া বা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হৃদযন্ত্রের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। নিয়মিত রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা, ডাক্তারের পরামর্শমতো ওষুধ গ্রহণ এবং অপ্রয়োজনীয় শারীরিক চাপ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনা ভোটদান প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। ভোটারদের স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনা করে জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা উচিত। আপনার স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কে সচেতন হয়ে, প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণ করা কি আপনার ভোটদানের অভিজ্ঞতাকে আরও নিরাপদ করে তুলবে?



