ঢাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে আজ বিকেলের দিকে ভোটগ্রহণ চলছে, তবে ভোটার সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। নির্বাচনের তৃতীয় দিনেও ভোটদান প্রক্রিয়া কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই চলছে, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি যথেষ্ট সক্রিয়। কম উপস্থিতি সত্ত্বেও ভোটদান প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
ভোটকেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেখা গেছে, কোনো প্রতিবাদ বা অশান্তি লক্ষ করা যায়নি। ভোটদানকারী নাগরিকদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা কর্মীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। এই পরিস্থিতি ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপের ফলাফল বলে বিশ্লেষণ করা যায়।
বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটদানকে সুরক্ষিত রাখে। পুলিশ, র্যাপিড রেসপন্স টিম এবং স্থানীয় নিরাপত্তা গোষ্ঠীর সমন্বিত উপস্থিতি ভোটকেন্দ্রের চারপাশে দৃশ্যমান। ফলে ভোটারদের মধ্যে নিরাপদ অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
আজ সকাল থেকে ঢাকা শহরের উচ্চ বিদ্যালয়, লালমাটিয়া সোসাইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গ্রাফিকস আর্ট ইনস্টিটিউট, রেসিডেন্সিয়াল মিডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ঢাকা সিটি কলেজে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে বিভিন্ন বয়সের ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশিত। তবে প্রত্যেক কেন্দ্রে উপস্থিতি প্রত্যাশিত মাত্রার নিচে রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রতিটি কেন্দ্রের দু’ঘণ্টা পরেও ভোটার সংখ্যা কমই রয়ে গেছে। বিশেষ করে ঢাকা সিটি কলেজে দুই ঘণ্টা পরেও ভোটের লাইন দীর্ঘ নয়। অন্যান্য কেন্দ্রেও একই রকম পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকা সিটি কলেজের নারীদের ভোটদান হার প্রায় আট শতাংশে সীমাবদ্ধ। এই সংখ্যা তিন ঘণ্টা পরেও উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন হয়নি। নারীদের অংশগ্রহণের এই নিম্ন মাত্রা নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন তুলতে পারে।
পুরুষ ভোটারদের অংশগ্রহণ প্রায় নয় শতাংশে সীমাবদ্ধ। তিন ঘণ্টা পরেও ভোটের লাইন দীর্ঘ না হওয়ায় এই হার স্থিতিশীল রয়ে গেছে। পুরুষ ভোটারদের কম উপস্থিতি সামগ্রিক ভোটের বৈধতা নিয়ে আলোচনা উত্থাপন করতে পারে।
অন্যান্য ভোটকেন্দ্রগুলোতে তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে ভোটগ্রহণের হার প্রায় তিন থেকে চার শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিছু কেন্দ্রে এই হার দশ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে, তবে তা সামগ্রিক গড়ের তুলনায় এখনও কম। কম উপস্থিতি সত্ত্বেও ভোটদান প্রক্রিয়া কোনো বাধা ছাড়াই চলেছে।
কোনো কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন বা অপেক্ষার সময়ের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়নি। ভোটারদের মধ্যে দ্রুত ভোটদান সম্পন্ন করার প্রবণতা স্পষ্ট। ফলে ভোটকেন্দ্রগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ভিড়ের ঝুঁকি কমে গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, বিকেলের পর সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি পেতে পারে। তারা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই আশাবাদী মন্তব্যের ভিত্তিতে ভোটদান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
কম উপস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তবে তারা ভোটের স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে অঙ্গীকারবদ্ধ। ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে। এই প্রচেষ্টা ভোটের বৈধতা ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
কম ভোটার উপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর ভোটের ভাগে পার্থক্য তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমান পর্যবেক্ষণ থেকে স্পষ্ট যে ভোটদান প্রক্রিয়া কোনো বাধা ছাড়াই চলছে। ভবিষ্যতে উপস্থিতি বাড়লে ফলাফলে পরিবর্তন আসতে পারে।
বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে অঙ্গীকারবদ্ধ। নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং সময়মত গণনা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত তদারকি করা হবে। ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগে সকল কেন্দ্রের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
এই পর্যবেক্ষণ থেকে স্পষ্ট যে, আজকের ভোটদান প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে চলছে, তবে ভোটার উপস্থিতি কম। নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ও বিশ্লেষণ পরবর্তী প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হবে।



