কমেডি জগতের পরিচিত মুখ রাজপাল যাদবের ঋণ‑সংক্রান্ত আইনি সমস্যার ওপর তার স্ত্রী রাধা যাদবের মন্তব্য প্রকাশ পায়। রাধা জানিয়েছেন, দেরি না করে শিল্পের বহু সহকর্মী ও বন্ধুরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা অভিনেতার বর্তমান আর্থিক ও আইনি সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
রাজপাল যাদব, ‘হেরা ফেরি’ ও ‘ভুল ভুলাইয়া’ মতো হিট ছবিতে কমেডি চরিত্রে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০১০ সালে ‘আটা পাটা লাপাতা’ ছবির জন্য নেওয়া একটি ঋণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত আদালতে পৌঁছায়। ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চেক বাউন্সের অভিযোগও ওঠে, যা দিল্লি হাই কোর্টের আদেশে তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে।
রাধা যাদব পিটি আইকে জানিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “সবারই পাশে ছিলেন, শিল্পের সমর্থন অবিচল, যারা সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন তাদের প্রতি বড় ধন্যবাদ।” তিনি উল্লেখ করেন, এই সমর্থন শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ নয়, মানসিক উৎসাহের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
বহু পরিচিত শিল্পী ও গায়ক এই সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। গায়ক মিকা সিংহ প্রকাশ্যে রাজপালের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং অন্যদেরও সমর্থন করতে আহ্বান জানান। সঙ্গীত জগতের পাশাপাশি, অভিনেতা সোনু সুড, সালমান খান, অজয় দেবগন এবং বরুণ ধাওয়ানও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদিও প্রত্যেকের নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশিত হয়নি, তবে তাদের সমর্থন রাজপালের পরিবারকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে।
রাজপালের ম্যানেজার গোল্ডি জৈনও পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, বহু ব্যক্তি ও সংস্থা সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছেন, তবে এখনো সব বিষয় চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। এই প্রস্তাবগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এ পর্যন্ত রাজপাল যাদব নিজে কোনো বিস্তারিত বিবৃতি দেননি। তবে রাধার মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তার পেশাগত সহকর্মীরা এই কঠিন সময়ে একত্রিত হয়ে সমর্থন দিচ্ছেন, যা শিল্পের ঐক্যবদ্ধ চিত্রকে আরও দৃঢ় করে তুলছে।
বলিউডের ইতিহাসে আর্থিক বা আইনি সমস্যায় পড়া সহকর্মীদের সহায়তা করার প্রচলন নতুন নয়। তবে এই ক্ষেত্রে শিল্পী ও গায়কদের দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং সরাসরি সাহায্য করার ইচ্ছা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এমন সমর্থন কেবল সমস্যার সাময়িক সমাধানই নয়, বরং শিল্পের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের মূলে নতুন উদ্যম যোগায়।
রাজপাল যাদবের আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান। চেক বাউন্সের মামলায় আদালতের আদেশ অনুসারে তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করার পর, পরবর্তী শুনানি ও সম্ভাব্য নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে। রাধা যাদব এবং তার পরিবার এই সময়ে শিল্পের সমর্থনকে শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে, সমস্যার সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
শিল্পের এই সমবায়িক সহায়তা ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যায় পড়া অন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীর জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা যায়।



