ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বাধীনপ্রার্থী এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা রুমিন ফারহানা আজ সকাল ৯:৩০ টায় সারাইল উপজেলার শাহবাজপুর উত্তর সরকারি প্রাইমারি স্কুল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। তিনি ভোটদান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে ভোটের পরিবেশকে স্বচ্ছ ও উৎসাহী বলে বর্ণনা করেন।
ভোটের দিন সকাল থেকে ভোটারদের আগমন বাড়তে থাকে; বহু মানুষ গন্তব্যস্থলে পৌঁছে ভোটের কিউতে দাঁড়িয়ে থাকে। ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে উল্লাসের সুর শোনা যায়, যা বহু বছর পর নাগরিকদের স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
রুমিন ফারহানা বলেন, “বছরের পর বছর পরে মানুষকে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ মিলছে। সকাল থেকে ভোটাররা উৎসাহের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিচ্ছেন। ভোটারদের মধ্যে একটি উৎসবের মতো পরিবেশ দেখা যাচ্ছে।” তিনি এই মন্তব্যের পরে উপস্থিত মিডিয়ার সামনে তার অনুভূতি পুনরায় জোর দেন।
তিনি আরও যোগ করেন, “ভোটারদের স্বয়ংক্রিয় অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি নিজের আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
রুমিন ফারহানা পূর্বে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর স্বাধীনপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তার এই পদক্ষেপের ফলে তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলতে চেয়েছেন এবং স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছেন।
এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বহু ভোটার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে ভোটের জন্য রওনা হয়েছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ভোটের জন্য গাড়ি, সাইকেল এবং পায়ে হেঁটে যাওয়া ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্রগুলোতে যথাযথ নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভোটার তালিকা, ভোটের পাত্র এবং গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সকল প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ই ভোটের স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত উভয় দলের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রুমিন ফারহানার আশাবাদী মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, স্বচ্ছ ভোটের পরিবেশ ভবিষ্যতে তার নির্বাচনী প্রচারণায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি যদি এই উচ্ছ্বাস বজায় রাখতে পারেন, তবে তার স্বাধীনপ্রার্থী প্রচারাভিযানকে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করতে পারে।
সারাইল উপজেলার ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসা ভোটারদের মুখে সন্তুষ্টি এবং গর্বের ছাপ দেখা যায়। রুমিন ফারহানা এই মুহূর্তকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সকল নাগরিকের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
এই ভোটদান প্রক্রিয়া দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে, যা পরবর্তী নির্বাচনী ধাপগুলোতে প্রভাব ফেলবে। রুমিন ফারহানার মতামত এবং ভোটারদের উচ্ছ্বাসের মিশ্রণ দেশের গণতন্ত্রের শক্তি পুনর্নির্মাণে সহায়ক হতে পারে।



