ধারা‑৯ স্বাধীন প্রার্থী তাসনিম জারা আজ নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে তার এজেন্টদের প্রবেশে বাধা ও বহিষ্কারের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। খিলগাঁও মডেল কলেজ ভোটকেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্রে এজেন্টদেরকে ‘অবৈধ’ ও ‘কল্পিত’ কারণের ভিত্তিতে প্রবেশ থেকে বিরত রাখা হয়েছে, বলে তিনি জানান।
তাসনিম জারা বলেন, তার এজেন্টদেরকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া অথবা বিভিন্ন অযৌক্তিক কারণের ভিত্তিতে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “কিছু এজেন্টকে বলা হচ্ছে, ‘আপনি এখানে ভোটার নন’, যদিও কোনো বিধি নেই যে ভোটকেন্দ্রের এজেন্টকে সেই নির্বাচনী এলাকার ভোটার হতে হবে।” এ ধরনের অযৌক্তিক যুক্তি দিয়ে এজেন্টদেরকে ভোটকেন্দ্রের বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
মহিলা এজেন্টদেরকে পুরুষ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া, এমনকি অপ্রমাণিত নিয়মের ভিত্তিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, তাসনিম জারা আরও জানান। তিনি বলেন, “ফোন নিয়ে আসতে না পারা, যদিও বিধি অনুযায়ী ফোন বহন করা যাবে, ব্যবহার করা যাবে না, এই অযৌক্তিক যুক্তি দিয়ে আমাদের এজেন্টদেরকে ভোটকেন্দ্রের বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”
তাসনিম জারা এই পরিস্থিতিকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করে, “যদি আমাদের প্রতিনিধিরা পর্যবেক্ষণ করতে না পারে, তবে এই প্রক্রিয়াকে ন্যায্য বলা যায় না” বলে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “যখন আমি নির্দিষ্ট কোনো বিধি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি, তারা কোনো উত্তর দিতে পারে না। একবার আমাকে নিজে গিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হয়েছে, কিন্তু প্রার্থী হিসেবে আমি সব সময় প্রিসাইডিং অফিসারদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে পারি না যে কোন বিধি আমাদের এজেন্টদেরকে এমন অযৌক্তিক কারণের ভিত্তিতে বের করে দিতে পারে।”
এজেন্টদের বহিষ্কারের পেছনের আদেশের দায়িত্ব সম্পর্কে জারা প্রশ্ন তোলেন। “আমি যখন জিজ্ঞাসা করি কে আদেশ দিয়েছে, তারা শুধু বলে ‘আমাকে বলা হয়েছে’, কিন্তু আদেশ দাতা কে তা জানাতে অস্বীকার করে। এই ধরনের অনুপযুক্ত আচরণ কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়,” তিনি বলেন। তাছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে একই রকম অভিযোগ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে এসেছে।
ধারা‑৯-এ তাসনিম জারা স্বাধীনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদও প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উপস্থিত। এই নির্বাচনী এলাকা ৪৬৯,৩৬০ নিবন্ধিত ভোটার নিয়ে গঠিত, যা দেশের অন্যতম বড় ভোটারসংখ্যা সম্পন্ন এলাকা।
তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, “আমরা একটি ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন চাই, এবং আমাদের এজেন্টদেরকে মিথ্যা কারণের ভিত্তিতে প্রবেশ থেকে বাধা দেওয়া তা বিরোধী।” তিনি ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তাদেরকে স্পষ্ট উত্তর চেয়ে আহ্বান জানান, যাতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত হয়।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, নির্বাচনী কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাসনিম জারা জানান, তিনি ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত আছেন, যাতে তার এজেন্টদের পর্যবেক্ষণ অধিকার নিশ্চিত করা যায় এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
এই ঘটনার ফলে ধারা‑৯-এ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এবং অন্যান্য প্রার্থীরা ও ভোটারগণও এই ধরনের প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। তাসনিম জারা আশা প্রকাশ করেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করবে এবং সকল প্রার্থীর এজেন্টদের সমান পর্যবেক্ষণ অধিকার নিশ্চিত করবে।



