সুইডেন সরকার নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন শর্ত আরোপের পরিকল্পনা জানিয়েছে। পার্লামেন্টে অনুমোদন পেলে ৬ জুন থেকে এই বিধান কার্যকর হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীর সুইডেনে কমপক্ষে আট বছর বসবাসের প্রমাণ দরকার, যা বর্তমানে পাঁচ বছর।
অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইঙ্গিত দিয়েছেন, নতুন শর্তগুলো পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কঠোর, কারণ এখন নাগরিকত্বের জন্য কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত ছিল না। এছাড়া, আবেদনকারীর মাসিক আয় কমপক্ষে ২০,০০০ সুইডিশ ক্রোনা হতে হবে এবং সুইডিশ ভাষা ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
অপরাধের রেকর্ড থাকা ব্যক্তিদের জন্য অপেক্ষার সময় আরও বাড়ানো হবে। উদাহরণস্বরূপ, চার বছরের কারাদণ্ড সম্পন্ন কোনো ব্যক্তি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হলে ১৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই ধারা অপরাধমূলক ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে আবেদনকারীর যোগ্যতা পুনর্বিবেচনা করে।
২০১৫ সাল থেকে সুইডেনের সরকারগুলো ধারাবাহিকভাবে অভিবাসন নীতি কঠোর করেছে। একই বছর প্রায় এক লক্ষ ষাট হাজার আশ্রয়প্রার্থী সুইডেনে আশ্রয় চেয়েছিলেন, যা পরবর্তী নীতিমালার পরিবর্তনের পটভূমি তৈরি করে। সরকার দাবি করে, কঠোর শর্তগুলো গৃহীত হলে গৃহীত নাগরিকত্বের মান উন্নত হবে এবং সামাজিক সংহতি বজায় থাকবে।
সংখ্যালঘু জোট সরকার এই পদক্ষেপকে আসন্ন সেপ্টেম্বরের সংসদীয় নির্বাচনের জন্য ভোটারদের কাছে আকর্ষণীয় করতে একটি কৌশল হিসেবে দেখছে। তারা বিশ্বাস করে, অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর নীতি ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বাড়াবে এবং নির্বাচনী ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অভিবাসনবিরোধী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলও একই সময়ে সরকারের এই নীতিকে সমর্থন জানিয়েছে। দলটি উল্লেখ করেছে, গত কয়েক দশকের ব্যর্থ অভিবাসন নীতি গ্যাংভিত্তিক অপরাধের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তারা দাবি করে, কঠোর নাগরিকত্বের শর্ত এবং আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নতুন সীমাবদ্ধতা অপরাধের হার কমাতে সহায়ক হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন শর্তগুলো পার্লামেন্টে অনুমোদিত হলে তৎক্ষণাৎ কার্যকর হবে এবং আবেদন প্রক্রিয়ার সকল ধাপে প্রয়োগ করা হবে। এতে আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত নথি প্রস্তুত করা এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা প্রয়োজন হবে।
এই পরিবর্তনগুলো সুইডেনের অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে তীব্র করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। একদিকে, সরকার নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতি রক্ষার দাবি তুলে ধরছে; অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থা এবং কিছু রাজনৈতিক দল এই শর্তগুলোকে বৈষম্যমূলক এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যাজনক বলে সমালোচনা করছে।
সুইডেনের নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকার যে লক্ষ্য অর্জন করতে চায়, তা হল দীর্ঘমেয়াদে দেশের জনসংখ্যা গঠনকে স্থিতিশীল করা এবং অভিবাসন সম্পর্কিত জনমতকে সুনির্দিষ্টভাবে পরিচালনা করা। তবে, এই নীতির বাস্তবায়ন কীভাবে সামাজিক সংহতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রভাব ফেলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
নতুন শর্তের আলোকে, ভবিষ্যতে সুইডেনের নাগরিকত্ব প্রাপ্তির হার কমে যাওয়া সম্ভব, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের এবং অপরাধের ইতিহাসযুক্ত আবেদনকারীদের জন্য। সরকার এই পরিবর্তনকে দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
সুইডেনের নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের এই প্রস্তাবের পরবর্তী ধাপ হবে পার্লামেন্টে আলোচনা এবং ভোট। যদি অনুমোদিত হয়, তবে ৬ জুন থেকে নতুন শর্তগুলো প্রয়োগে আসবে এবং আবেদনকারীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এই পরিবর্তন দেশের অভিবাসন নীতি ও রাজনৈতিক পরিবেশে কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



