ব্রিটিশ তরুণ অভিনেতা রোমান গ্রিফিন ডেভিস, যিনি ‘জোজো র্যাবিট’ ছবিতে জোজো বেটজলার চরিত্রে বিশাল সাফল্য অর্জন করেন, পোলিশ অ্যানিমেশন স্টুডিও লাইটক্রাফ্টের নতুন ৩ডি ইংরেজি অ্যানিমেটেড ছবিতে প্রধান কণ্ঠে অংশ নেবেন। ছবির শিরোনাম ‘ওয়ান্ডারল্যান্ড’, যা পূর্বে ‘ড্রিমওয়ার্ল্ড’ নামে পরিচিত ছিল, এবং এতে ডেভিস জেক নামের ১২ বছর বয়সী ছেলেটির কণ্ঠ দেবেন, যিনি তার বন্ধু জেনির সঙ্গে স্বপ্নে অদ্ভুত ভ্যাগাপুলগা প্রাণীদের মুখোমুখি হন।
ডেভিসের কণ্ঠে জেকের চরিত্রটি কল্পনাপ্রবণ এবং সাহসিকতায় ভরপুর, যেখানে দুজন তরুণের স্বপ্নের জগতে অদ্ভুত প্রাণীদের সঙ্গে লড়াইয়ের মাধ্যমে আত্ম-অন্বেষণ এবং বন্ধুত্বের শক্তি তুলে ধরা হবে। মাডস মিকেলসেনও একই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন, ফলে দুই তরুণের কণ্ঠে এক নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ হবে।
লাইটক্রাফ্ট, পোল্যান্ডের একটি স্বতন্ত্র অ্যানিমেশন স্টুডিও, ‘ওয়ান্ডারল্যান্ড’ প্রকল্পটি ৩ডি ফরম্যাটে তৈরি করছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ইংরেজি ভাষায় উপস্থাপন করবে। ছবির উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে পোলিশ টিমের নেতৃত্বে চলছে, তবে কণ্ঠশিল্পে আন্তর্জাতিক প্রতিভাদের সমন্বয় করা হয়েছে, যা ছবিটিকে বৈশ্বিক দর্শকের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলবে।
‘ওয়ান্ডারল্যান্ড’ মূলত ‘ড্রিমওয়ার্ল্ড’ নামে পরিচিত ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত নাম পরিবর্তন করে বর্তমান শিরোনাম গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনটি ছবির কাহিনীর স্বপ্নময় স্বভাবকে আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। ছবিটি ইংরেজি ভাষায় রেকর্ড করা হবে, ফলে বিশ্বব্যাপী বিতরণে সহজতা নিশ্চিত হবে।
ডেভিসের ক্যারিয়ার ‘জোজো র্যাবিট’ দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। এই ছবিতে তার পারফরম্যান্সের জন্য তিনি ক্রিটিক্স চয়েস মুভি অ্যাওয়ার্ডে বেস্ট ইয়ং অ্যাক্টর পুরস্কার জিতেছেন এবং গোল্ডেন গ্লোবের জন্যও মনোনীত হয়েছেন। এই স্বীকৃতিগুলি তার তরুণ বয়সেও শিল্পের উচ্চ প্রশংসা এনে দেয়।
‘জোজো র্যাবিট’ের পর ডেভিস বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি ফ্রান্সিস লরেন্স পরিচালিত স্টিফেন কিং উপন্যাস ‘দ্য লং ওয়াক’ ছবিতে, গেরার্ড বাটলারের সঙ্গে ‘গ্রিনল্যান্ড ২: মাইগ্রেশন’ এবং বিল নাই এবং মেইজি উইলিয়াম্সের সঙ্গে ‘৫০০ মাইল’ চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। এই অভিজ্ঞতাগুলি তাকে বিভিন্ন ধরণের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দিয়েছে এবং তার শিল্পীসত্তা আরও সমৃদ্ধ করেছে।
অ্যানিমেশন ক্ষেত্রে ডেভিসের প্রথম কণ্ঠ কাজ ছিল অ্যাঞ্জেল স্টুডিওসের স্বাধীন চলচ্চিত্র ‘দ্য কিং অফ কিংস’‑এ ওয়াল্টার ডিকেন্সের কণ্ঠে, যেখানে তিনি তার কণ্ঠের বহুমুখিতা প্রদর্শন করেন। এই অভিজ্ঞতা ‘ওয়ান্ডারল্যান্ড’ প্রকল্পে তার কণ্ঠশিল্পকে আরও পরিপূর্ণ করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘ওয়ান্ডারল্যান্ড’ ছবির পরিচালনা দায়িত্বে মাকোউইচ এবং ম্যাক্স নাপোরোস্কি যুক্ত আছেন, যেখানে মাকোউইচ প্রযোজক হিসেবেও কাজ করছেন। এক্সিকিউটিভ প্রযোজক হিসেবে পলিনা নোয়াক, দেরাখশানি এবং মাইকেল রোশের নাম উল্লেখযোগ্য। এই টিমের সমন্বয় ছবির গুণগত মান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিশ্চিত করবে।
সঙ্গীত রচয়িতা মিকোলাজ স্ট্রয়িনস্কি, যিনি ভিডিও গেম ‘দ্য উইচার ৩: ওয়াইল্ড হান্ট’‑এর সাউন্ডট্র্যাকের জন্য পরিচিত, ‘ওয়ান্ডারল্যান্ড’‑এর পটভূমি সুর রচনা করবেন। তার সুরের গুণমান ছবির স্বপ্নময় পরিবেশকে আরও জীবন্ত করে তুলবে এবং দর্শকের আবেগকে স্পর্শ করবে।
বিশ্বব্যাপী বিক্রয় ও বিতরণ কাজ কাইনোস্টার পরিচালনা করছে। এই সপ্তাহে বার্লিনে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ফিল্ম মার্কেটে কাইনোস্টার ‘ওয়ান্ডারল্যান্ড’‑এর প্রথম সিজল রিল উপস্থাপন করবে, যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। এই প্রচারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ছবির বৈশ্বিক বিতরণ পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে যাবে।
‘ওয়ান্ডারল্যান্ড’ বর্তমানে ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেই সময়ে বিশ্বব্যাপী থিয়েটার ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছবির মুক্তির অপেক্ষা করা দর্শকদের জন্য এখনই তথ্য সংগ্রহ এবং আপডেট অনুসরণ করা উপকারী হবে, যাতে প্রথমবারের মতো বড় স্ক্রিনে এই স্বপ্নময় অভিযানের আনন্দ উপভোগ করা যায়।
যদি আপনি অ্যানিমেশন এবং তরুণ কণ্ঠশিল্পে আগ্রহী হন, তবে রোমান গ্রিফিন ডেভিসের নতুন কণ্ঠভূমিকা এবং ‘ওয়ান্ডারল্যান্ড’‑এর গল্পের অগ্রগতি নিয়মিত অনুসরণ করা আপনার জন্য উপকারী হবে। ভবিষ্যতে প্রকাশিত ট্রেলার, পোস্টার এবং রিলিজ তারিখের তথ্যের জন্য স্টুডিও ও বিক্রয় সংস্থার অফিসিয়াল চ্যানেলগুলোতে নজর রাখুন।



