থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাত ইয়াই জেলার পাতং প্রাতান কিরিওয়াত স্কুলে গুলির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক নারী শিক্ষক গুলিবিদ্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন। গুলি চালানো ১৭ বছর বয়সী কিশোরটি স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তার বন্দুক চুরি করে অপরাধ সম্পন্ন করে। ঘটনাটি বুধবার বিকেলে ঘটেছে এবং পুলিশ দ্রুত সন্দেহভাজনকে আটক করেছে।
হাত ইয়াইয়ের এই বিদ্যালয়ে গুলি চালানোর আগে কিশোরটি একটি পুলিশ অফিসারের হাতে থাকা বন্দুক চুরি করে। চুরি করা অস্ত্র নিয়ে সে একই দিন স্কুলে প্রবেশ করে, যেখানে সাসিপাত সিনসামোসন নামের শিক্ষককে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি করার পর শিক্ষককে জরুরি সেবার মাধ্যমে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সাসিপাত সিনসামোসন, যিনি স্কুলের পরিচালকের দায়িত্বও পালন করতেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরই ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সার্জারির পরেও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জানামতে, স্থানীয় সময় রাত ২ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
গোলাগুলি চালানোর সময় এক নারী শিক্ষার্থীও গুলিবিদ্ধ হন। যদিও তার আঘাতের বিস্তারিত জানানো হয়নি, সূত্র অনুযায়ী তাকে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। তার বর্তমান স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
সন্দেহভাজন কিশোরটি পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার করে। তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে তার নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে এবং ডিসেম্বর মাসে তাকে একটি মানসিক হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাস্থলীয় বিদ্যালয়ে তার একটি বোনও শিক্ষার্থী হিসেবে পড়ে, যা এই ঘটনার সামাজিক প্রভাবকে বাড়িয়ে তুলেছে।
হাত ইয়াই জেলার প্রশাসন ও থাইল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাটির পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, ভবিষ্যতে স্কুলের প্রবেশদ্বারে নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে।
পুলিশের মতে, গুলির জন্য ব্যবহৃত বন্দুকটি অফিসিয়ালভাবে নিবন্ধিত নয় এবং চুরি হওয়ার পর তা অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে গুলি চালানো অস্ত্রটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং তদন্তের অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হবে। সন্দেহভাজনকে স্থানীয় আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে গুলিবিদ্ধের অপরাধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
থাইল্যান্ডে বন্দুকের মালিকানা তুলনামূলকভাবে সহজ, ফলে দেশের বিভিন্ন অংশে বন্দুক সহিংসতার ঘটনা ঘটতে থাকে। সরকার এই ধরনের অপরাধ কমাতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিধান শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, তবে বাস্তবায়ন এখনও ধীরগতিতে চলছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় সম্প্রদায় শোক প্রকাশ করেছে এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৎপরতা দাবি করেছে। পরিবার ও সহকর্মীরা সাসিপাত সিনসামোসনের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে সমবেত প্রার্থনা ও শোকসভা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।
আইনি দিক থেকে, সন্দেহভাজন কিশোরের বিরুদ্ধে গুলিবিদ্ধের অপরাধ, অবৈধ অস্ত্রধারী হওয়া এবং মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগে মামলা দায়ের করা হবে। তদন্ত চলাকালীন অতিরিক্ত সাক্ষী ও প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আপডেট প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



