ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় দিনে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোটগ্রহণ চলছে। ঢাকা-৯ এবং গোপালগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো বড় অশান্তি রেকর্ড করা যায়নি।
রাজধানীর মান্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুরের সময় নারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়, যেখানে তীব্র রোদের মাঝেও ভোটাররা ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করছেন। জহুরা আক্তার, যিনি জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে এসেছেন, বলেন, “আধা ঘণ্টা ধরে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি, এখনো ভোট দিতে পারিনি।” তিনি আরও যোগ করেন, “ভেবেছি দুপুরে আসলে ভিড় কম থাকবে, তাই সকালে আসিনি। এখন এসে দেখি দীর্ঘ লাইন।” যদিও রোদের কারণে কিছু অস্বস্তি আছে, জহুরা জানান, প্রথম ভোটের গুরুত্ব তাকে সহ্য করতে সাহায্য করছে এবং তিনি যাকে ভোট দেবেন তার বিজয় কামনা করছেন।
অনেক ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই ভিড় দেখা গিয়েছে, আর কিছু স্থানে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো বড় অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি এবং ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলমান।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিকেল ৯ টার দিকে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল, তবে খালের ওপার থেকে দুজন দুর্বৃত্ত ককটেল নিক্ষেপ করেন। বিস্ফোরণে দুইজন আনসার সদস্য এবং একটি শিশুর সঙ্গে আসা একটি শিশু আহত হয়। আহতদের মধ্যে আনসার সদস্য সুকন্ঠ মজুমদার, জামাল হোসেন এবং পৌরসভার আরামবাগ এলাকার ১৪ বছর বয়সী আমেনা খানম অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
বিস্ফোরণের শব্দে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, এবং ভোটকেন্দ্রের মূল ফটক আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কেন্দ্রে মোতায়েন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
অন্যদিকে, ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রিসাইডিং অফিসারদের অযৌক্তিকভাবে সরিয়ে নেওয়া নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং তা গ্রহণযোগ্য নয়। তার এই অভিযোগ নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এই ঘটনাগুলি নির্বাচনের মাঝামাঝি সময়ে নিরাপত্তা ও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। ভোটগ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের তদারকি গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাসনিম জারার মত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিযোগও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে, যা পরবর্তী পর্যায়ে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়াতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় দিনে ভোটগ্রহণের প্রবাহ স্থিতিশীল থাকলেও, গোপালগঞ্জে ককটেল হামলা এবং ভোটকেন্দ্রের কর্মী পরিবর্তন সংক্রান্ত অভিযোগগুলো ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিবেশে সতর্কতা বাড়াবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা নির্বাচনের সুষ্ঠু সম্পন্নের মূল চাবিকাঠি হবে।



