অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় রাজধানীর গুলশান‑২ এলাকায় মডেল হাই স্কুল ও কলেজের সমাবেশে ভোটের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন ঘোষণা করেন। তিনি উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকদের সামনে এই মুহূর্তকে “মহা আনন্দের দিন” বলে বর্ণনা করেন।
ইউনূসের মতে, আজকের ভোটের মাধ্যমে দেশের অতীতের দুঃস্বপ্নময় অংশ থেকে মুক্তি পেয়ে নতুন স্বপ্নের সূচনা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতি হিসেবে একত্রে উদযাপন করা উচিত এবং পুরো দিনটি উৎসবের ছন্দে কাটবে।
সমাবেশে উপস্থিতদের কাছে তিনি ভোটের গুরুত্ব পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “গণভোটই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি”। তিনি যোগ করেন, ভোটদান কেবল এক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং সমগ্র দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তি।
ড. ইউনূস ভোটের ফলাফলকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রথম ধাপ হিসেবে তুলে ধরেন এবং আশ্বাস দেন, গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হবে। তিনি সকল নাগরিককে ভোটে অংশ নিতে আহ্বান জানান, যাতে নতুন স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
সমাবেশে উপস্থিত কিছু নাগরিকের মন্তব্যে দেখা যায়, তারা নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আশাবাদী এবং ভোটের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। তবে সমাবেশে কোনো বিরোধী দলের প্রতিনিধির উপস্থিতি বা মন্তব্য রেকর্ড করা হয়নি।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে তথ্যের অভাবের কারণে, এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীর আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে বিরোধী দলগুলো ভোটের ফলাফল ও নতুন নীতিমালা সম্পর্কে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে।
ড. ইউনূসের বক্তৃতায় তিনি “মুক্তির দিন” শব্দটি ব্যবহার করে অতীতের দুঃস্বপ্নের সমাপ্তি এবং নতুন স্বপ্নের সূচনা উল্লেখ করেন। তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে, এই দিনকে সকলের জন্য “মহা আনন্দের দিন” হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আহ্বান জানান।
ভোটের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে ব্যাখ্যা করেন, ভোটদানকারী প্রতিটি নাগরিকের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং ফলাফল স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটের ফলাফলই নতুন বাংলাদেশের দিকনির্দেশ নির্ধারণ করবে।
এই ভোটের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং নতুন নীতি চালু করার পরিকল্পনা করেছে। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, ভোটের পরবর্তী ধাপে নির্বাচনী কমিশন ফলাফল যাচাই করে সরকারকে জানাবে, যা নতুন সরকার গঠনের ভিত্তি হবে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, যদি ভোটের ফলাফল ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ফলাফল যদি বিতর্কের সৃষ্টি করে, তবে তা সামাজিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
ড. ইউনূসের বক্তৃতা শেষে উপস্থিত সবাইকে “মোবারকবাদ” জানিয়ে সমাবেশ সমাপ্ত হয়। তিনি পুনরায় ভোটের গুরুত্ব ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য সমবেত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে ভোটের মাধ্যমে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি গঠনের প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে ভোটের ফলাফল কীভাবে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশকে প্রভাবিত করবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



