কমিল্লা জেলায় জাতীয় নির্বাচনের তৃতীয় দিনে, বিএনপি-র কমিল্লা-১ আসনের প্রার্থী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ভোটদান শেষে উল্লেখযোগ্য মন্তব্য করেন। তিনি জানান, গত সতের বছর পর ভোটাররা স্বতন্ত্রভাবে ভোট দিতে পারছে, যা দীর্ঘকালীন আন্দোলনের ফল। এই মন্তব্যটি দাউদকান্দি গয়েশপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ভোটের পর প্রকাশ পায়।
মোশাররফ হোসেনের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, আন্দোলনের লক্ষ্যই ভোটারদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক শাসন গড়ে তোলা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণ এখন তাদের ইচ্ছানুযায়ী প্রার্থীকে সমর্থন করে সংসদে পাঠাতে সক্ষম এবং এটাই সরকারের গঠন প্রক্রিয়ার ভিত্তি।
মোশাররফের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার মারুফ হোসেন, যিনি প্রার্থীর বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে ভোটদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রশংসা করেন। উভয়ই ভোটের দিনকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
কমিল্লা-৯ আসনের জন্য নির্বাচিত প্রার্থী মো. আবুল কালাম লাকসাম, পাশাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। ভোটের পরিবেশ দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন, ভোটারদের উপস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে এসেছে এবং কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের লক্ষণ দেখা যায়নি।
কমিল্লা-৬ আসনের প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী চৌয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ভোট দেন। তিনি ভোটের দিনকে শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং আশাবাদী যে ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের অধিকার ব্যবহার করবে।
কমিল্লা-৮ আসনের কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন, সোনাইমুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। তিনি ভোটের সময়ের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং ভোটারদের শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান।
কমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনের প্রার্থী ও বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন, কায়কোবাদ ডিআর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দেন। তিনি ভোটের দিনকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখার জন্য সকল স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তা কর্মীর ভূমিকা উল্লেখ করেন এবং ভোটারদের শান্তিপূর্ণ আচরণে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
সামগ্রিকভাবে, কমিল্লা জেলায় ভোটের দিনটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো সন্ত্রাসী হুমকি বা অশান্তির ঘটনা রিপোর্ট করা যায়নি, এবং ভোটারদের উপস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করছে।
বিএনপি দল এই ফলাফলকে তাদের দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। দলটি দাবি করে, স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারবে এবং তা সরকারের গঠন প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এদিকে, দলটি ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক শাসনকে শক্তিশালী করার জন্য আরও উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপ্রকোপ তৈরি করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ভোটের স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ায়, পরবর্তী সময়ে গৃহীত নীতিগুলি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী গড়ে উঠতে পারে।
কমিল্লা জেলায় অনুষ্ঠিত এই ভোটদান প্রক্রিয়া দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশের একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যেখানে বিভিন্ন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং ভোটারদের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় এই ধরনের স্বচ্ছতা ও শান্তি বজায় থাকলে দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।



