28 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকুমিল্লা নাঙ্গলকোটে পরিত্যক্ত মৎস্য খামার থেকে বিস্ফোরক সরঞ্জাম উদ্ধার

কুমিল্লা নাঙ্গলকোটে পরিত্যক্ত মৎস্য খামার থেকে বিস্ফোরক সরঞ্জাম উদ্ধার

কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোটে অবস্থিত পরিত্যক্ত মৎস্য খামারের এক পুরনো ভবন থেকে বুধবার দুপুরে ককটেল তৈরির যন্ত্রপাতি এবং জিআই পাইপসহ বিস্ফোরক সম্ভাব্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত যৌথবাহিনী ২০০ টিরও বেশি খালি জের্ডা কৌটা এবং শতাধিক জিআই পাইপ নিল।

স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বাতাবরণ দেখা গিয়েছে। কিছু বাসিন্দা জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আল বাশারাত মৎস্য খামারের আশেপাশে অজানা ব্যক্তিরা হাত ব্যাগ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। এই অস্বাভাবিক চলাচলকে নিয়ে স্থানীয় মানুষ সন্দেহের মুখে পড়ে।

বুধবার দুপুরে একটি মাইক্রোবাসে কয়েকজন সন্দেহজনক ব্যক্তি এসে ব্যাগে জিনিস ভর্তি করে দ্রুত খামার থেকে বেরিয়ে যায়। বাসটি চলে যাওয়ার পর কিছু বাসিন্দা পরিত্যক্ত ভবনে গিয়ে দেখা পায় যে সেখানে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম এবং জিআই পাইপ রাখা আছে। এই আবিষ্কারই তাদেরকে থানা পুলিশে জানাতে প্ররোচিত করে।

থানা পুলিশ জানায়, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্ফোরক সম্ভাব্য সামগ্রী তৎক্ষণাৎ বাজেয়াপ্ত করে। উদ্ধারকৃত জিনিসপত্রের মধ্যে ককটেল তৈরির পাত্র, ফুয়েল ট্যাঙ্ক, জিআই পাইপ এবং খালি জের্ডা কৌটা অন্তর্ভুক্ত।

মৎস্য প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা রায়হান রহমান রাজু উল্লেখ করেন, গত কয়েক দিনই একই স্থানে ৪-৫ জন অচেনা ব্যক্তি ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। তিনি বলেন, যখন তিনি উপস্থিত ছিলেন, তখন খামারের দুইজন কর্মচারীকে বাইরে বসিয়ে রাখা হয় এবং তিনি নিজেও বাইরে বসিয়ে রাখা হয়েছিলেন। পরে তিনি উপরের কক্ষে গিয়ে এক ঘণ্টা পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন।

নাঙ্গলকোট থানা ওয়ানডি অফিসার আরিফুর রহমান জানান, উদ্ধারকৃত জিআই পাইপ এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠিয়ে বিশ্লেষণ করা হবে। বিশ্লেষণের ফলাফলের ভিত্তিতে এগুলো বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহারযোগ্য কিনা তা নির্ধারণ করা হবে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম সাধারণত অপ্রচলিত বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। জিআই পাইপও যদি সঠিকভাবে পরিবর্তন করা হয় তবে উচ্চচাপের গ্যাস সংরক্ষণে ব্যবহার করা সম্ভব। তাই এই সামগ্রীগুলোকে অবিলম্বে নিরাপদে নিষ্পত্তি করা জরুরি।

অধিক তদন্তের জন্য স্থানীয় পুলিশ দল এবং জ্বালানি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্সের কাজ হবে উদ্ধারকৃত সামগ্রীর বিশদ পরীক্ষা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক দিক অনুসন্ধান।

বিচারিক প্রক্রিয়ার দিক থেকে, বিস্ফোরক সামগ্রী সংরক্ষণ, ব্যবহার বা বিক্রয়ের জন্য আইনের অধীনে কঠোর শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি এই সামগ্রীকে অবৈধ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার ইচ্ছা প্রকাশ করে থাকে, তবে তারা সশস্ত্র অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার হতে পারেন।

স্থানীয় প্রশাসন এখনো এই ঘটনার সম্পূর্ণ পরিসর জানার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments