ফরিদপুরের দুইটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী কেন্দ্রে বেআইনিভাবে বহিরাগতদের প্রবেশের অভিযোগ উঠার পর দুজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা পদ থেকে সরিয়ে নতুন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগটি বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে উত্থাপিত হয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার দ্রুত পদক্ষেপ নেন।
প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা ছিলেন ফরিদপুর‑৩ (সদর) আসনের হিতৈষী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের মো. আল আমিন এবং ফরিদপুর‑১ (আলফাডাঙ্গা‑বোয়ালমারী‑মধুখালী) আসনের আশাপুর মাদ্রাসা কেন্দ্রের জাহিদুল ইসলাম। উভয়কে একই দিনে প্রত্যাহার করা হয় এবং তাদের পরিবর্তে নতুন কর্মী নিয়োগ করা হয়।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোট কেন্দ্রে আইনবহির্ভূত বহিরাগত প্রবেশের সুযোগ দেওয়া দুই কর্মকর্তার দায়িত্ব ছিল এবং তা সংশোধন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের ফলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
বৈধ ভোটার তালিকা ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে, স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো এই ঘটনার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিরোধী দলগুলো দাবি করে যে, এমন ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে কঠোর তদারকি প্রয়োজন।
অন্যদিকে, নির্বাচনী কমিশনের প্রতিনিধিরা জানান, অভিযোগের পর দ্রুত তদন্ত চালু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, নতুন প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা যথাযথ প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা পেয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
স্থানীয় ভোটার সংগঠনগুলোও এই ঘটনার পর ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে কর্মসূচি চালু করার ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা বলেছে, ভোটারদেরকে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ম মেনে চলতে এবং কোনো অনিয়ম দেখলে তা সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করতে হবে।
এই ঘটনার ফলে ফরিদপুরের নির্বাচনী পরিবেশে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তবে প্রশাসনিক পদক্ষেপের দ্রুততা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সহায়তা করেছে। নির্বাচনের ফলাফল ও ভোটার অংশগ্রহণের ওপর এর প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করেন, প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের পরিবর্তন ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠন প্রয়োজন। তারা উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এমন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর শাস্তি ও তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত।
স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে নতুন প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা বাড়াতে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ সেশন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। এই প্রশিক্ষণে ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তা প্রোটোকল, ভোটার পরিচয় যাচাই এবং অননুমোদিত প্রবেশ রোধের পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিরোধী দলগুলোও দাবি করে যে, নির্বাচনী কমিশনকে সকল কেন্দ্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তদারকি দল গঠন করতে হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম দ্রুত শাস্তি দিতে হবে। তারা উল্লেখ করে, ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারই দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি।
অবশেষে, ফরিদপুরের দুইটি কেন্দ্রের নতুন প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। এই পরিবর্তন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভবিষ্যতে, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত তদারকি ব্যবস্থা প্রস্তাব করতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা প্রদান করা সম্ভব হবে।



