ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তালিকা ঘোষণার পর থেকে সামাজিক মিডিয়ায় ভুয়া তথ্যের বন্যা চলেছে; ভোট গ্রহণের আগের রাতেও এই প্রবণতা থেমে নেই। বুধবার রাতের দিকে একটি ফটোকার্ড অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বলা হয়েছে বিএনপি ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে।
ফটোকার্ডে যমুনা টিভির লোগো ও নকশা ব্যবহার করা হয়েছে, এবং ক্যাপশনে লেখা ছিল “মধ্যরাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি”। পোস্টটি দ্রুত নজরে আসে, এবং মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় তিন হাজার দুইশতাধিক মন্তব্য, একশের কাছাকাছি মন্তব্য এবং আশি বার শেয়ার হয়েছে।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, যমুনা টিভি এই ধরনের কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি; তাদের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে ভোট বর্জন সংক্রান্ত কোনো সংবাদ পাওয়া যায় না। একই শিরোনাম দিয়ে কীওয়ার্ড অনুসন্ধানেও কোনো স্বীকৃত মিডিয়ায় তথ্য পাওয়া যায়নি।
যমুনা টেলিভিশনের ওয়েবসাইটে “রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি” শিরোনামের একটি সংবাদ আছে, তবে তা ভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে। প্রথম আলোতে “নেতা-কর্মীদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান বিএনপির” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যা মূলত গুলশানের বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের কথা জানায়।
সেই সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। তিনি ভোট বর্জনের কোনো ঘোষণা দেননি; বরং দলীয় নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে, নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং ফলাফল সংগ্রহ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ছাড়তে না বলার আহ্বান জানান।
ভুয়া ফটোকার্ডের উৎস অনুসন্ধানে দেখা যায়, এটি “Dhaka Expose” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে। ঐ পেজটি পূর্বে নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতাদের নিয়ে অনুরূপ ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড প্রচারের রেকর্ড রয়েছে।
সেই একই সকালে গুলশান মডেল স্কুল ও কলেজে ভোটদানকারী বিএনপি নেতাদের দৃশ্য দেখা যায়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটের পর মিডিয়াকে জানান, “বাংলাদেশের মানুষ আজ তাদের অধিকার প্রয়োগ করবেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নেবেন”।
এই ঘটনা নির্বাচনের পরিবেশে তথ্যের সঠিকতা ও গোপনীয়তার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। ভুয়া তথ্যের দ্রুত বিস্তার ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে প্রভাবিত করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্যের প্রচার রোধে প্ল্যাটফর্মগুলোকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, এবং ব্যবহারকারীদেরও তথ্যের সত্যতা যাচাই করার দায়িত্ব নিতে হবে।
বিএনপি দলের অভ্যন্তরে ভোটদানের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে, যা ভোট বর্জনের গুজবকে খণ্ডন করে। দলের নেতারা ভোট কেন্দ্রে উপস্থিতি ও ফলাফল সংগ্রহের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক।
ভুয়া ফটোকার্ডের প্রভাব সীমিত করতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। নির্বাচনী কমিশন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা নির্বাচনী তথ্যের সঠিকতা, সামাজিক মিডিয়ার দায়িত্ব এবং রাজনৈতিক দলের ভোটদানের প্রস্তুতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করে, যা আসন্ন নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।



